সৈয়দা রিজওয়ানার গাড়িতে ঢিল

কাউন্সিলর জহুরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত

গত জানুয়ারিতে আকবরশাহ থানার লেকসিটি এলাকায় কাটা পাহাড় ও ভরাট পাহাড় পরিদর্শনে যান বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় পরিদর্শন টিমের আশপাশে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকজন অবস্থান নেন
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িতে ঢিল ও হুমকি দেওয়ার মামলায় কাউন্সিলর জহুরুল আলম ওরফে জসিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম শুনানি শেষে এটি গ্রহণ করেন।

জহুরুল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

গত ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেয় আকবর শাহ থানা-পুলিশ। এতে কাউন্সিলর জহুরুলকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন জহুরুলের সহযোগী বিল্লাল হোসেন, আবু নোমান, সাইফুদ্দিন ভূঁইয়া, আনিছ চৌধুরী ও মো. শাকিল। তাঁদের মধ্যে নোমান ছাড়া বাকি ব্যক্তিরা জামিনে আছেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন আদালত। বিচারের জন্য এটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ আদালতে পাঠানো হবে।

রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে বেলার একটি প্রতিনিধিদল গত ২৬ জানুয়ারি আকবর শাহ থানা এলাকায় পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শনে গেলে কাউন্সিলর জহুরুল ও তাঁর সহযোগীদের মারমুখী আচরণের শিকার হন। এ ঘটনায় রিজওয়ানা হাসান আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পাহাড় কাটা এলাকা পরিদর্শনে গেলে কাউন্সিলর জহুরুল আলমের নেতৃত্বে আসামিরা বেলার প্রধান নির্বাহীসহ প্রতিনিধিদলকে বাধা দেন, গাড়ি আটকে রাখেন ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। আটকে রাখা সেই গাড়ি পুলিশ গিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। এজাহারে থাকা অজ্ঞাত ঠিকানাসহ কয়েকজন আসামির পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কাউন্সিলর জহুরুলের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিচারাধীন। বাকি তিনটি তদন্তাধীন। রিজওয়ানা হাসানের মামলার প্রসঙ্গে কাউন্সিলর জহুরুল দাবি করে আসছেন, তিনি ঘটনার দিন কাউকে বাধা কিংবা হুমকি দেননি।