নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। এই পদে তাঁর নিয়োগ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এই সম্মতি বিষয়টি ঢাকাকে জানিয়েছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ইতিমধ্যে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে গত ১৩ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসাদ আলম সিয়ামের নাম প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। এখন এই প্রস্তাবে সম্মতি দিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আসাদ আলম সিয়াম একজন পেশাদার কূটনীতিক। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন।
আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিচট স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ করেন।
আসাদ আলম সিয়াম কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়, হাওয়াইয়ের এপিসিএসএস, সিউলের আইএফএএনএস, ঢাকার জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি পেশাদার কোর্স সম্পন্ন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন আসাদ আলম সিয়াম। তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল ছিলেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, পালাউ, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আসাদ আলম সিয়াম অসংখ্য দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি ভিয়েনায় জাতিসংঘের কার্যালয় এবং ওপেক তহবিলে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। ব্যাংককে ইউএন এসকাপে বিকল্প স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া আসাদ আলম সিয়াম ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে আসাদ আলম সিয়াম নিয়োগ পান। এ পদে তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।