পার্সোনালাইজড স্কিনকেয়ার সমাধানের মাধ্যমে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস দেশে উদ্ভাবনী ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে
পার্সোনালাইজড স্কিনকেয়ার সমাধানের মাধ্যমে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস দেশে উদ্ভাবনী ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে

বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস: পার্সোনালাইজড স্কিনকেয়ারের সমাধান

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিউটি ও স্কিনকেয়ার শিল্পে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছে ‘বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস’। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক ও পার্সোনালাইজড স্কিনকেয়ার সমাধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশে উদ্ভাবনী ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই জন্ম নেয়নি ‘বায়োজিন’। এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের গল্প।

২০১৫ সালের কথা। বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ভবিষ্যৎমুখী বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে অধিকাংশ তরুণ যখন নিরাপদ জীবনের খোঁজে পাড়ি জমাচ্ছিলেন বিদেশে, তখন মোহাম্মদ জাহিদুল হক বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। নিজের অর্জিত জ্ঞান আর মেধাকে দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত করার এক দৃঢ়সংকল্প ছিল তাঁর চোখে। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান আর ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের গভীর অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। তাঁর লক্ষ্য ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আধুনিক স্কিনকেয়ার প্রযুক্তিকে একত্র করে মানুষের ত্বক ও চুলের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর সমাধান দেওয়া।

ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবা

বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের বিশেষত্ব হলো, প্রত্যেক গ্রাহকের ত্বকের ধরন, জীবনযাপন ও পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত সমাধান দেওয়া।

সাধারণত সৌন্দর্যচর্চা বা স্কিনকেয়ার বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বাজারে চলতি কিছু প্রসাধন সামগ্রীর কথা। কিন্তু বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস এই প্রথাগত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব হলো, তারা প্রত্যেক গ্রাহককে দেখেন একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে, যাঁর ত্বকের প্রয়োজনটাও সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে কোনো ‘ওয়ান-সাইজ-ফিটস-অল’ বা সবার জন্য এক সমাধান নীতি নেই। বায়োজিনের প্রতিটি সেবার পেছনে কাজ করে নিখুঁত বিজ্ঞান।

• পার্সোনালাইজড সমাধান: প্রত্যেক গ্রাহকের ত্বকের ধরন, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং পরিবেশগত প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই দেওয়া হয় সঠিক সমাধান।

• আবহাওয়া: বাংলাদেশের আবহাওয়ায় রয়েছে তীব্র আর্দ্রতা, ধুলাবালু আর রোদ। এ দেশের মানুষের ত্বকের সমস্যাগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে ভিন্ন। বায়োজিন এই দেশীয় প্রেক্ষাপটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাদের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে।

• শুধু সৌন্দর্য নয়, সুস্থতা: সাময়িক উজ্জ্বলতা বা কৃত্রিম ফরসা হওয়ার মোহে না ভুলে প্রতিষ্ঠানটি জোর দেয় দীর্ঘমেয়াদি ত্বক সুরক্ষা ও ত্বকের ভেতরের সুস্থতার ওপর; যা মানুষের আত্মবিশ্বাস ও সুস্থতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

মোহাম্মদ জাহিদুল হক, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস

একজন গবেষকের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

দেশের স্কিনকেয়ার খাতে যখন নকল, ভেজাল ও ক্ষতিকর পণ্যের ছড়াছড়ি, ঠিক তখনই মোহাম্মদ জাহিদুল হক তীব্রভাবে উপলব্ধি করেন এক বিশাল শূন্যতার। এই খাতে সত্যিকারের বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ও নিরাপদ সেবার অভাব। সেই অভাব পূরণের অদম্য জেদ নিয়ে সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে একাই পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি।

সততা আর দূরদর্শিতা থাকলে যে একা পথ চলেও একসময় শীর্ষে পৌঁছানো যায়, বায়োজিন তার প্রমাণ। শুরুতে যে যাত্রা ছিল একার, আজ তা রূপ নিয়েছে পাঁচ শর বেশি কর্মীর এক বিশাল ও স্পন্দিত পরিবারে।

তবে এই রূপান্তরের চেয়েও বড় মানবিক গল্পটি লুকিয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের অন্তরালে। বায়োজিনের এই বিশাল কর্মীদের সিংহভাগজুড়ে রয়েছেন নারীরা।

নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য দৃষ্টান্ত

বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালসের অন্যতম বড় শক্তি হলো নারীকেন্দ্রিক কর্মপরিবেশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮৩ শতাংশ কর্মী নারী। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ উদ্যোগ শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন

উদ্ভাবনী কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসে প্রতিষ্ঠানটি ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে উদ্ভাবনী কসমেসিউটিক্যালস ব্র্যান্ড’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়। স্কিনকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ অবদান ও এসবের স্বীকৃতির কথা শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন বিজনেস ইনসাইডার, ওমেন্স ইনসাইডার, ইয়াহু ফাইন্যান্স, এপি, এবিসি, ফক্স নিউজ ইত্যাদিতেও খুবই গুরুত্বের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাহিদুল হক ২০২৩ সালে সিইও রিভিউ ম্যাগাজিন কর্তৃক ‘এন্টারপ্রেনিউর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস থেকে স্ট্যানফোর্ড সিড ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

দক্ষ কর্মী, বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে বায়োজিন আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস ভবিষ্যতে আরও গবেষণাভিত্তিক পণ্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল হক বলেন, ‘স্কিনকেয়ারের ভবিষ্যৎ হলো পার্সোনালাইজড সমাধান। প্রত্যেক মানুষের জেনেটিক গঠন যেমন আলাদা, ঠিক তেমনি ত্বকও আলাদা। তাই আমাদের সমাধানও হতে হবে ভিন্ন ও বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী। আমরা শুধু সুন্দর ত্বক নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই।’

প্রতিষ্ঠান পরিচিতি

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস একটি বিজ্ঞানভিত্তিক স্কিনকেয়ার প্রতিষ্ঠান। বায়োটেকনোলজি, আধুনিক অ্যাস্থেটিক কেয়ার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সৌন্দর্যসেবা খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে। বর্তমানে সারা দেশে ২০টি শাখা এবং অনলাইনের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। খুব দ্রুতই দেশের প্রতিটি জেলায় বায়োজিনের পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে চায় বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস।