আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জিয়াউল আহসানের পদোন্নতির বিপক্ষে ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ‘একজন সিরিয়াল কিলার’ হওয়ায় তাঁকে পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ বুধবার তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ তাঁকে প্রথম দিনের মতো জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। আগামী সোমবার তাঁকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে জিয়াউল আহসান লে. কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন। প্রমোশন বোর্ডের অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। বোর্ডের অনেক সদস্যই তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে পদোন্নতির পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তাঁকে পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নই। তুমি (মোমেন) পদোন্নতির সভায় বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করবে এবং তিনি সভায় এভাবেই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছিলেন। তথাপি অধিকাংশ সদস্য তাঁকে ভালো অফিসার হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন।’

জিয়াউল কখনো ভালো অফিসার ছিলেন না উল্লেখ করে জেরায় প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। তিনি (জিয়াউল) স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনো অর্জন করেননি এবং স্টাফ কলেজ করেননি। লে. কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ান কমান্ড করেননি। সে জন্য তিনি কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না। আমি উল্লেখ করতে চাই যে উপরিউক্তভাবে জেনারেল মোমেন পদোন্নতি সভায় জিয়াউল সম্পর্কে উপস্থাপন করায় কিছুদিন পর তাঁকে (মোমেন) সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তাঁকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত করা হয়। সেনাবাহিনীতে এ ধরনের পোস্টিংকে ডাম্পিং পোস্টিং বলা হয়।’

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার সময় তাঁর চেয়ে সিনিয়র অফিসার ছিলেন।