
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামকে (মনি) নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার এবং হোয়াটসঅ্যাপে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এ এম হাসান নাসিম (৩৫) একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন।
শুক্রবার রাতে পশ্চিম আগারগাঁওয়ের একটি বাসা থেকে নাসিমকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পরে শনিবার বিকেলে গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনের একটি মামলায় নাসিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ডিবির সাইবার বিভাগ মামলাটি তদন্ত করছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (সাইবার) সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেলে নাসিমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) তোলা হয়। আদালতে হাজির করে তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হানুর রহমান। অন্যদিকে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম।
শুনানি শেষে রিমান্ড ও জামিন আবেদন বাতিল করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গুলশান থানায় করা মামলায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলামকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার এবং তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মো. নজরুল নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন।
নজরুল ইসলাম নিজেকে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল অভিযোগটি তদন্ত করে নাসিমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার (সাইবার) সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ফেসবুকে লেখালেখি ও চিফ হুইপকে হোয়াটসঅ্যাপে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির সাইবার বিভাগ মামলাটি তদন্ত করছে।
চিফ হুইপকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে এ এম হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একজন নাগরিককে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার ও হয়রানির মাধ্যমে চরম ‘অপেশাদারত্ব’ ও ‘আইনী জ্ঞানহীনতার’ পরিচয় দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চায় এবং ভুক্তভোগীর অনতিবিলম্বে মুক্তি চায়।