মোবাইলের সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণভাবে তুলে নিল সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যে দামে সিম বিক্রি হবে তার উপর ১৫ শতাংশ কর আদায় করা হবে।দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এর ফলে এখন থেকে আরও কম মূল্যে সিম কেনা যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ খাতে করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ হার অনেক বেশি। তাই এ খাতের বিকাশে সরকার এ ধরনের ট্যাক্স ক্রমান্বয়ে যৌক্তিক হারে কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কর কমানোর উদ্যাগের অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।’
তবে এই সিদ্ধান্তে বড় অঙ্কের রাজস্ব ছাড় দিতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর প্রত্যাহারের ফলে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সরকার আইসিটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে কর, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালায় ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে।
সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘জাতীয় বাজেটে সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই। সিম কর প্রত্যাহারের ফলে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনো সংযুক্ত নয়, এমন জনগোষ্ঠী ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগে তাদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে।’
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতকে জাতীয় থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে স্বীকৃতি এবং কিছু কর হ্রাসসহ এই খাতকে সহায়তায় সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আমরা স্বাগত জানাই। এই পদক্ষেপগুলো ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করতে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’