সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ

জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সিসিটিভিতে দেখা ব্যক্তির তথ্য দিলে পুরস্কার দেবে পুলিশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তায় এ অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশের বার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। কারও কাছে তাঁর পরিচয়, অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে ০১৩২০–০৮৯৩০৫ (হোয়াটস অ্যাপ) এই নম্বরে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের বার্তায় আরও বলা হয়, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে পুরস্কারেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রী ক্যাম্পাসের ভেতরে সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর পিছু নেন। একপর্যায়ে ছাত্রীর গলায় জাল পেঁচিয়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ওই ব্যক্তি। ছাত্রী নিজেকে রক্ষা করে সড়কে চলে আসেন। এ সময় সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে ছাত্রীসহ শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে দেখতে পান। তবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

ঘটনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি ঘটনার তথ্য গোপন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি জানান। তাঁরা আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আলটিমেটাম দেন। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগের দাবি জানান। গতকাল রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সময় বেঁধে দেন।

এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় গতকাল রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা। সারা রাত অবস্থানের পর আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে হলে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।