যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা আয়োজন করা হয়। ২ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা আয়োজন করা হয়। ২ জানুয়ারি ২০২৬

লস অ্যাঞ্জেলেসের কনস্যুলেটে শোকসভা

খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নন, তিনি বাংলাদেশের সম্পদ

সারা দিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, শুক্রবার বিকেল, সাধারণ কাজের দিন। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জড়ো হন। মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী বাঙালি, বিএনপির নেতা-কর্মীসহ দল-পক্ষনির্বিশেষে সবার জন্য কনস্যুলেটের দরজা খোলা ছিল।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত সবাই শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। সবার চোখে ছিল প্রিয় নেতার জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

কনস্যুলেটের ভেতরে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কোরআন তেলাওয়াত করেন তরুণ শিক্ষার্থী ওয়াহিদা রহমান। আয়োজনে সভার শুরুতে প্রয়াত নেতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা সঞ্চালনা করেন ডেপুটি কনস্যুলার জেনারেল আলাউদ্দিন ভূইয়া। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলা এই সভায় বক্তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সততা, নীতি, ধৈর্য এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। শোকসভা শেষে প্রয়াত এই নেতার জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা। লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র। ২ জানুয়ারি ২০২৬

শোকসভায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বলেন, আজকে দল-পক্ষনির্বিশেষে যেভাবে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হলো, তাতে আবারও প্রমাণ হলো যে বিপদ-দুর্যোগে তিনি দলের সঙ্গে থাকতেন এবং সব সময় জনকল্যাণের কথা ভাবতেন। জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং সর্বস্তরের শোক প্রকাশ, এর মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। আমাদের উচিত তাঁর আদর্শ ধারণ করে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়া। কনস্যুলেট তিন দিন শোক পালন করছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। প্রবাসীরা কনস্যুলেটে রাখা স্বাক্ষর বইতে শোকবার্তা লিখছেন।

শোকসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী (শিপলু) ও সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান।

তাঁরা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির সম্পদ নন, তিনি বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি গণমানুষের নেতা, শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, সারা বিশ্বও তাঁকে চেনে এবং শ্রদ্ধা করে। খালেদা জিয়াকে কোনো দলীয় সম্পদ বানানো যায় না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ নাসির জেবুল, বদরুল আলম মাসুদ, সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত, কাঞ্চন চৌধুরী, শামসুজ্জোহা বাবলু, চপল আনসারি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিপার চৌধুরী, হলিউড মসজিদের সভাপতি আবদুল মান্নান, সমাজকর্মী মারুফ ইসলাম, আবুল হাশেম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মুনিম, ফয়সল তুহিন, আবদুস সামাদ মৃধা, হারুন অর রশিদ, আবদুল মোতালেবসহ অনেকে।