সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

সিদ্ধান্তটা ভারতকেই নিতে হবে: শামা ওবায়েদ

একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা (বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার) বলে এবং ভারত সরকার সেটা অ্যালাউ করে (সুযোগ দেয়), তখন ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গতকাল দিল্লিতে শেখ হাসিনার সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এই অভিমত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

এক সাংবাদিক তাঁর প্রশ্নে ভারতে বসে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান। জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গতকাল রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কূটনৈতিক ভাষায় যতটুকু বোঝানো সম্ভব, সরকার তা বলার চেষ্টা করেছে। এর আগেও বাংলাদেশ বারবার ভারতকে বলেছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা ঠিক কেমন সম্পর্ক চায়, সে বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। এই জঙ্গিবাদের তত্ত্বটা আওয়ামী লীগের পুরোনো নোংরা রাজনীতি। এটাই তারা এখন বিদেশের মাটিতে বসে আবার নতুন করে করার চেষ্টা করছে। এখন এটি চলতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে যখনই কোনো ঘটনা ঘটেছে, তখনই উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা হয়েছে। অথচ একই সময়ে তাদের নিজেদের হাতে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

আলোচনায় আগ্রহী, সিদ্ধান্ত ভারতকে নিতে হবে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নত হোক—এটা দুই দেশের সরকার ও জনগণ উভয়েই চায়। কিন্তু স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম’ চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা এখনই বন্ধ না করে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

দুই দেশের মধ্যে অনেক দ্বিপক্ষীয় ইস্যু আলোচনা, সংলাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা বসতে চাই, আলোচনা করতে চাই। কিন্তু সিদ্ধান্তটা এখন ভারতকে নিতে হবে।’

ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশ কঠোর প্রতিবাদ জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের হাইকমিশনার সচিবালয়ে গিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটাই প্রমাণ করে যে দুই দেশের সরকারের সম্পর্ক বহুমুখী। খুনি হাসিনা বা তার দোসররা তো চাইবেই যে আমরা ওই জায়গায় আটকে থাকি। কিন্তু বাংলাদেশ তো একটা জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। জ্বালানি সহযোগিতা, পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা—এসব ইস্যুতে আলোচনা চলবে।’

তবে একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের ইস্যুটি নিছক ‘২৪-৩৬ ঘণ্টার ব্যাপার নয়’—এটি জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের সেন্টিমেন্টকে সরাসরি আঘাত করে, এমন একটি বিষয়। এ ব্যাপারে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে এবং ভবিষ্যতে কী করতে চায়, সে বিষয়ে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বারবার প্রতিবাদ সত্ত্বেও দিল্লিতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে এবং এভাবে চলতে থাকলে উচ্চপর্যায়ের সফরের মতো সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। আমরা চাই ভালো সম্পর্ক থাকুক। তবে সেটা জনগণের স্বার্থে, সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মানের জায়গায় রেখে এবং নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে হতে হবে।’

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাড়া দেবেন কি না, সে প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় বহুপক্ষীয় এ ধরনের ফোরামে অংশগ্রহণে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত যাবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর ব্যস্ততা ও সময়সূচির ওপর। ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিমসটেক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে পৃথক দুটি আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশও এরই মধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে জানিয়ে সাংবাদিকদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।