পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। ৩০ জুলাই ২০২৬
পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। ৩০ জুলাই ২০২৬

জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হত্যা মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের করা তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ (১০ সেপ্টেম্বর) দিন রাখেন।

আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এ মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কলিমউল্লাহর নাম–ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো দরকার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাতে কাফরুল থানা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ সময় তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন হতাহত হন। রুবেল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রুবেলের আত্মীয় আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে আসামি করা হয়।

শুনানিতে কে কী বললেন

নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদনের বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামির রাজনৈতিক কোনো পদ–পদবি নেই। তিনি একজন শিক্ষক। আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। এটা থেকেই তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন করা হয়েছে।

আদালতকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, আসামি কলিমউল্লাহ আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ হত্যার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম কুশীলব।

এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন কলিমউল্লাহ। তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন ও শিক্ষকতার জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এখনো নেই। ভিসি থাকার সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এ জন্য আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করার কথা উল্লেখ করে কলিমউল্লাহ আরও বলেন, ‘আমি জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি, কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক। এর বাইরে আর কিছু না। আমি নির্দোষ।’

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি কলিমউল্লাহকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

২০২৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর পর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।