প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, আজ রোববার বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ জুন রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ান প্রদেশে যাবেন। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন।

মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, ২টি চুক্তি, ১টি কর্মপরিকল্পনা ও ১টি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ( সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।

২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেদিন এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকবেন।

২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামের একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন তিনি।

বিকেলে চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন তারেক রহমান। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।

২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।