‘দেশবিরোধী মার্কিন চুক্তি স্থগিতের দাবিতে’ অবস্থান কর্মসূচিতে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)–এর নেতা–কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে
‘দেশবিরোধী মার্কিন চুক্তি স্থগিতের দাবিতে’  অবস্থান কর্মসূচিতে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)–এর নেতা–কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সংসদে পর্যালোচনার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্যচুক্তি জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার মাধ্যমে এর ক্ষতিকর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখাসহ চারটি দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। এ চুক্তি করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার আশ্রয় কেন নেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তুলেছে তারা।

‘দেশবিরোধী মার্কিন চুক্তি স্থগিতের দাবিতে’ আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এনপিএ। এ কর্মসূচি থেকে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও দেশীয় শিল্প রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে জনগণের সঙ্গে আলোচনা না করে প্রায় গোপনীয়তার আবরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অসম বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে গত অন্তর্বর্তী সরকার। এ চুক্তি শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম নীতিনির্ধারণ ক্ষমতাকে বিপন্ন করছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি, কৃষিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন শিল্পকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যে মার্কিন আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক রায়ে সেই শুল্ক বাতিল করে দেয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতাকে অবৈধ ঘোষণা করে। সর্বশেষ ১১ মার্চ মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে কাঠামোগত অতিরিক্ত উৎপাদনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে মার্কিন বাণিজ্যচাপ কমেনি, বরং নতুন রূপ নিচ্ছে। চুক্তি করেও বাংলাদেশ নিরাপদে নেই।

কোনো বৃহৎ শক্তির ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বলি হওয়া বাংলাদেশের পথ হতে পারে না উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি কখনো সমান হয় না। এখন জাতীয় সংসদকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সংসদে পর্যালোচনার আগে এ চুক্তি যেন স্থগিত থাকে।

অবস্থান কর্মসূচিতে সমাপনী বক্তব্য দেন এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত। তিনি বলেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষেত্রে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সায় ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই বলে, দালালি না আজাদি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম চুক্তি নিয়ে তারা কথা বলছে না। সার্বভৌমত্ব কি শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার।

এনপিএর কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদারি করার ক্ষেত্রে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য দেখা যায়।

এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো কথা বলবে, সেই প্রত্যাশার কথা জানান এনপিএর কাউন্সিলের আরেক সদস্য কৌশিক আহমেদ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী তরুণদের উদ্যোগে গঠিত এনপিএর এই অবস্থান কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল ‘দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত কর’। এতে অংশ নেওয়া প্রায় সবার হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘কার সাথে ব্যবসা, বলে দেবে আমেরিকা!’, ‘বাজার বাংলাদেশের, সিদ্ধান্ত আমেরিকার!’, ‘বাণিজ্যের নামে কর্তৃত্ব ফলানোর চুক্তি’, ‘দিল্লি না ওয়াশিংটন, ঢাকা ঢাকা’, ‘বাণিজ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপ চাই না’, ‘অসম চুক্তিকে না বলুন’—এ রকম লেখা ছিল।

কর্মসূচির সঞ্চালক ছিলেন এনপিএর কাউন্সিল সদস্য শামীম আরা নিপা। উপস্থিত ছিলেন এনপিএর সদস্য বাকী বিল্লাহ, অলিক মৃ, ইমতিয়াজ নাদভী, রাফসান আহমেদ, মাঈন আহমেদ, নূমান আহমাদ চৌধুরী প্রমুখ।