জুনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে: এমএসএফ

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)

গত জুন মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতের পাশাপাশি কারা হেফাজতে আগের মাসের তুলনায় মৃত্যু বেড়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে এ হিসাব দিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হিসাব দিয়ে এমএসএফ বলেছে, দেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার ও পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনা অব্যাহত আছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার রুদ্ধ। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়তে থাকায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

দেশের ১৮টির বেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও নিজেদের সংগৃহীত তথ্যের বরাতে এমএসএফ জানিয়েছে, গত মাসে কারা হেফাজতে ১৬ জন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের মাসে এ সংখ্যা ছিল ১১।
এমএসএফের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, জুনে সীমান্তে হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন।

দেশে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণসহ নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে এমএসএফ। সংগঠনটি বলেছে, অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধারের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। কমছে না গণপিটুনির মতো ঘটনাও।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়ার কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেছে এমএসএফ। এর মধ্যে রাজবাড়ী থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে গত ৬ জুন সিদ্দিক মিজি সোহেল (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরও এখনো তাঁর সন্ধান মেলেনি। তবে সোহেল নামের ওই ব্যবসায়ীকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছেন রাজবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কারা হেফাজতে মৃত্যু অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, বেআইনি তৎপরতা ও পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।