নিরাপদ সড়ক নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা নিলে তাতে সহায়তা করতে আগ্রহী মোটরসাইকেল উৎপাদনকারীরা।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীর মৃত্যু বাড়ছে। এ অবস্থায় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা তৈরি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তারা এখন নিজেদের মতো চালকদের সচেতনতা তৈরি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিলে তারা সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স ও ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএএমএ) সভাপতি ও উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের জন্য সরকার দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি নিতে পারে। আমরা তাতে সহযোগিতা করব। এখন আমরা যা করছি, তা ছোট পরিসরে। এসব উদ্যোগ জাতীয়ভাবে বড় প্রভাব ফেলছে না।’
দেশে এখন মোটরসাইকেল উৎপাদন করছে প্রায় নয়টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের নীতিসহায়তা পেয়ে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। মোটরসাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লাখের বেশি মানুষ যুক্ত।
সরকার ২০১৮ সালে জাতীয় মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করে। এতে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের কথা বলা হয়। বিক্রেতাদের হিসাবে, ২০১৬ সালে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল ২
লাখ ৭০ হাজার। ২০২১ সালে তা প্রায় ছয় লাখে উন্নীত হয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হচ্ছে। মোট নিবন্ধিত যানবাহনের ৭০ শতাংশ মোটরসাইকেল।
অবশ্য দেশে এখনো মোটরসাইকেলের ব্যবহার কম। ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস নামের একটি ওয়েবসাইটের ২০১৯ সালের তথ্য বলছে, থাইল্যান্ডে ৮৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৮৫, ভারতে ৪৭ ও পাকিস্তানে ৪৩ শতাংশ পরিবারের মোটরসাইকেল রয়েছে। বাংলাদেশে হারটি ৭ শতাংশের কিছু বেশি।
মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা দুর্ঘটনা কমাতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলছেন—১. মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীকে হেলমেট পরতে বাধ্য করা ২. আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ‘সার্টিফায়েড’ হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা। সারা দেশে হেলমেটের নামে যা বিক্রি হয়, তা আসলে প্লাস্টিকের বাটি। ৩. অপ্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সবিহীন কিশোর ও তরুণেরা স্বজনদের মোটরসাইকেল নিয়ে যাতে বেরিয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে নজর দেওয়া এবং ৪. আধুনিক নিরাপত্তাসংবলিত মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা তৈরির কর্মসূচি নেওয়া যায়। দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা সরকারকে জানাতে পারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণকেন্দ্রও হতে পারে।