
দুই প্রবাসীকে মুঠোফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে একটি চক্র। অশ্লীল ছবি তুলে ও ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ও হত্যার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে চক্রটি। শেষ পর্যন্ত ছাড়া পেয়ে ওই দুই সৌদিপ্রবাসী পুলিশের শরণাপন্ন হন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ ছয় অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মো. শাহীন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জেলার প্রবাসফেরত ব্যক্তিদের এই ধরনের প্রেমের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে শহরের শেরপুর ও ঘাটুরা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রকাশিত তিতাস বার্তার সহসম্পাদক পরিচয়ধারী জেলা শহরের ভাদুঘর উত্তরপাড়ার মশিউর রহমান, মধ্যপাড়া নয়াপুকুরপাড়ের বাসিন্দা মো. সাজন, সদর উপজেলার ঘাটুরা এলাকার আবদুল আহাদ, ববিতা বেগম, মজলিশপুর গ্রামের লিপি আক্তার ও নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড়ের মক্ষিরানী জহুরা বেগম। সাজনের নামে আগে থেকেই মাদক, মারধর ও চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধের সাতটি মামলা আছে।
ওই দুই প্রবাসী হলেন সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকা উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা শাকিল মিয়া (২৫) ও অরুয়াইল বাজারের বাসিন্দা সোরাহান মিয়া। তাঁরা দুজন সম্পর্কে চাচাতো চাচা-ভাতিজা।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মো. শাহীন বলেন, অপহরণ চক্রের নারী সদস্যরা প্রবাসফেরত শাকিল ও সোরাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দেখা করার কথা বলে গত সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে শাকিলকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে তাঁরা অপহরণ করেন। জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় আটকে রেখে শাকিলকে মারধর ও বস্ত্রহীন করে অপহরণ চক্রের এক নারী সদস্যের সঙ্গে ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন তাঁরা। পরে তাঁকে শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন শেরপুর এলাকায় নিয়ে আটকে রাখেন অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে সোমবার রাতেই পরিবার থেকে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন। হত্যার ভয় দেখিয়ে শাকিলের মায়ের কাছ থেকে আরও টাকা দাবি করেন অপহরণকারীরা। শাকিলের মা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সরাইল থানা-পুলিশকে জানান।
পুলিশ জানায়, প্রেমের ফাঁদে ফেলে মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে একই কায়দায় সরাইল বিশ্বরোড মোড় থেকে সোরাহানকেও অপহরণ করে শেরপুর নিয়ে যায় চক্রটি। সেখানে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সোরাহানের পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের দেওয়া দুটি বিকাশ নম্বরে তিন দফায় ৬০ হাজার টাকা দেন।
অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে বুধবার শাকিল বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।