উদীচী আয়োজিত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে
উদীচী আয়োজিত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে

আলোচনা-আবৃত্তি-গানে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন উদীচীর

‘বন্ধু আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী, আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি’ স্লোগান নিয়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন করল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। শুক্রবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহসাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক মামুন সিদ্দিকী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল খায়ের।

আলোচকেরা বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্যিক জীবন ছিল মাত্র ছয় থেকে সাত বছরের। অথচ তাঁর সৃষ্টি দশকের পর দশক ধরে বাঙালিদের আচ্ছন্ন, মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে চলেছে। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা একই সঙ্গে সাহিত্যের দায় বহন করেছে, আবার মতাদর্শ, রাজনীতি এবং নিজের রাজনৈতিক দলের হয়েও ভূমিকা পালন করেছে। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা এবং মহাযুদ্ধের বিভীষিকাময় সময়ে ঔপনিবেশিক শাসকদের চক্রান্তে নেমে আসা মন্বন্তরের দিনগুলোতে জনগণের প্রতিদিনের সংগ্রামের সঙ্গী ছিলেন সুকান্ত।

বক্তারা বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রয়াণের প্রায় আট দশক পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো বদলেছে, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ধরন বদলেছে; কিন্তু মানুষের কিছু মৌলিক সংকট এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। বৈষম্য, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের চাপ, শ্রমজীবী মানুষের অনিশ্চয়তা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, সামাজিক অবিচার এবং পরিবেশগত সংকট—এসব প্রশ্ন আজও আমাদের সমাজকে নাড়া দেয়। সে কারণে সুকান্ত ভট্টাচার্য আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

আলোচনায় উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের নানা সংগ্রাম ও আন্দোলনে সুকান্ত আমাদের পাশে থেকে হাজার সুকান্ত হয়ে আজও যুদ্ধ করেন তাঁর তীক্ষ্ণ কবিতা আর গানের অস্ত্র নিয়ে। যেখানেই সংগ্রাম-যুদ্ধ, সেখানেই সুকান্ত।’

আলোচনা পর্বের পর শত প্রদীপ প্রজ্বালন করে সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা মহানগর সংসদসহ বিভিন্ন শাখা সংসদের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ কবিতাটি শপথ হিসেবে সবাইকে পাঠ করান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন। এরপর সুকান্তের লেখা ‘অবাক পৃথিবী’ গানটির সঙ্গে ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে উদীচীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা কবি সুকান্তের কবিতায় সুরারোপিত গান পরিবেশন করেন। গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘হে মহামানব একবার এসো ফিরে’, ‘হে সাথী আজকে স্বপ্নের দিন গোনা’ এবং ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ’। একক সংগীত পরিবেশন করেন অলক দাশগুপ্ত, জয়া সেনগুপ্তা, শাওন কুমার রায়, সরস্বতী সরকার ও বিজয় বণিক।

‘বন্ধু আজকে দোদুল্যমান পৃথ্বী, আমরা গঠন করব নতুন ভিত্তি’ শীর্ষক সম্মেলক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের শিল্পীরা। এর পরিকল্পনায় ছিলেন বেলায়েত হোসেন এবং নির্দেশনায় ছিলেন শিখা সেনগুপ্তা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাসুদুজ্জামান, শিখা সেনগুপ্তা ও সুমিত পাল। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে স্রোত আবৃত্তি সংসদ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগীতা ইমাম, মিতা রায় ও শেখ আনিসুর রহমান।