নিহত শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান (বাঁয়ে) ও তার মা রোকেয়া রহমান
নিহত শিক্ষার্থী জোবাইদা রহমান (বাঁয়ে) ও তার মা রোকেয়া রহমান

কেরানীগঞ্জে মা–মেয়ে খুন: ৩ দিনের রিমান্ডে গৃহশিক্ষিকার স্বামী

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে এক কিশোরী ও তার মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের স্বামী হুমায়ুন কবিরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালত এই আদেশ দেন।

ঢাকা জেলার প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই সুমাইয়া আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকা থেকে মিমের স্বামী হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রনি চৌধুরী। তবে ওই দিন মামলার মূল নথি না থাকায় তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।

এএসআই সুমাইয়া আক্তার জানান, শুনানির সময় হুমায়ুন কবিরকে আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষে আইনজীবী নাশিদুস জামান রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে নিখোঁজের ২১ দিন পর ১৪ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে রোকেয়া রহমান (৩২) ও তাঁর মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমার (১৪) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ঋণের টাকার জামিনদার হওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের খুন করা হয়। যে বাসা থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়, সেটি ছিল ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমের। স্বামীর সঙ্গে সেখানে থাকতেন তিনি।

গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে ফাতেমা মিমের বাসায় পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন রোকেয়াও। স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে প্রথমে কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহিন আহমেদ। এরপরও তাঁদের সন্ধান না পেয়ে ৬ জানুয়ারি অপহরণের মামলা করেন তিনি।

১৪ জানুয়ারি ফাতেমার শিক্ষিকা মিম ও তাঁর বোন নুরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন এই দুই বোনকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানান। তবে নুরজাহানের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আদালত তাঁকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পাঠানোর আদেশ দেন। আর মিমের জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।