আর্টিকেল নাইনটিন
আর্টিকেল নাইনটিন

আর্টিকেল নাইনটিন

গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশনের খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে উদ্বেগ

অন্তর্বর্তী সরকার হঠাৎ করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের দুটি খসড়া প্রকাশ করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, এসব খসড়া অধ্যাদেশের ওপর জনমত দেওয়ার জন্য মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত কম। এ ছাড়া খসড়া অধ্যাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের যে মানদণ্ড, তা পূরণেও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

অধ্যাদেশ দুটির খসড়া প্রকাশ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন। আজ মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সেটি প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে নেওয়া এই উদ্যোগে স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। পাশাপাশি এতে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, খসড়া অধ্যাদেশের কাঠামো, কমিশনারদের দায়িত্ব এবং এর প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সব দিক থেকে গণমাধ্যম কমিশনটিকে সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এতে আমলাতন্ত্রের প্রভাব বা কর্তৃত্ব হবে ব্যাপক। এ ধরনের কাঠামো সংস্থাটিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে ফেলবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের যে মানদণ্ড, এতে তার অনেক ঘাটতি রয়েছে।

কাঠামোগত স্বাধীনতার প্রশ্ন ছাড়াও অধ্যাদেশে কিছু মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করে আর্টিকেল নাইনটিন। বিশেষভাবে ‘সাংবাদিক’-এর সংজ্ঞা থেকে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে তারা। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর ফলে গণমাধ্যম অঙ্গনে কাজ করা একটি বড় অংশ আইনি সুরক্ষা, স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এতে নাজুক গণমাধ্যম পরিবেশ আরও নাজুক হতে পারে।

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের মতো সম্প্রচার কমিশনের খসড়া অধ্যাদেশেও একই ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছে আর্টিকেল নাইনটিন। সংস্থাটি বলেছে, বহুত্ববাদ বা জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা সুরক্ষিত করার পরিবর্তে অধ্যাদেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে আরও কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার কেন তাড়াহুড়ো করে খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করল, তা নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন আর্টিকেল নাইনটিন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গণমাধ্যম সংস্কারের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২২ মার্চ প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে একটি জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সুপারিশও ছিল। এসব সুপারিশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি। সংস্কার কমিশনের সদস্যরাই প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মাসের পর মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ সরকারের এই তৎপরতা তাদের উদ্দেশ্য ও বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বিবৃতিতে বলেছে, যেন অবিলম্বে এসব অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নতুন ও নির্বাচিত সরকারের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।