দেশীয় শিল্পের সক্ষমতার প্রতীক

দেশীয় অর্থায়নে, দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পদ্মা সেতু এ দেশের বিভিন্ন খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সেতু প্রকল্পে দেশীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে রড, সিমেন্টসহ আরও অনেক খাতের। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের সঙ্গে জড়িত সিমেন্ট, রড, নির্মাণ খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রথম আলোকে। কথা বলেছেন সুজয় মহাজন।

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম

পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে নদীশাসন কার্যক্রমে। এ প্রকল্পে সিমেন্ট সরবরাহ করতে গিয়ে আমাদের লজিস্টিক খাতে নতুন করে কিছু বিনিয়োগ করতে হয়েছে। সাইলো জেটি তৈরি, বাল্ক ক্যারিয়ার, কার্গো জাহাজ ও কাভার্ড ভ্যানে এ বিনিয়োগ করেছি। এসব বিনিয়োগ করা হয়েছে মূলত নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে। এতে আমাদের পণ্য সরবরাহ সক্ষমতা বেশ বেড়েছে। এ সুবিধা আমরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু তৈরির প্রকল্পে কাজে লাগিয়েছি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কারণে আমাদের যে সক্ষমতা বেড়েছে, তা ভবিষ্যতে বড় সব প্রকল্পের কাজে লাগানো যাবে। অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ সিমেন্ট তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে এ দেশের কোম্পানিগুলোর। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়ে গেছি। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দল দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছিল। তার একটি ছিল পণ্যের আন্তর্জাতিক মান, অন্যটি সময়মতো ও চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। দুটিতেই আমরা সফল হয়েছি।

পদ্মা সেতু মূলত ইস্পাতনির্ভর সেতু। এ সেতুতে সিমেন্টের ব্যবহার হয়েছে কম। তারপরও দেশের গর্বের এ সেতু প্রকল্পের অংশীদার হতে পেরে আমরাও গর্বিত। এ পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসনের কাজে আমরা এক লাখ ব্যাগের (প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি) মতো সিমেন্ট সরবরাহ করেছি। পরিমাণের দিক থেকে তা হয়তো খুব বেশি নয়। কিন্তু এ সেতুর কাজে যুক্ত থাকাটাই ছিল আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সক্ষমতার বড় প্রতীক। পাশাপাশি এটি এ দেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের সক্ষমতারও বড় প্রতীক হয়ে থাকবে বিশ্ব ইতিহাসে। দেশীয় অর্থে, দেশীয় উপকরণ ও দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের এক আন্তর্জাতিক প্রকল্প বা সেতু এটি। তাই এ সেতু আমাদের সক্ষমতা প্রমাণের বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমি মনে করি, এ প্রকল্প ভবিষ্যতে আমাদের দেশের চাহিদা অনুযায়ী আরও বড় বড় প্রকল্প তৈরিতে সাহস জোগাবে। সেই সব উদ্যোগে আমরাও যুক্ত থাকার সুযোগ পাব বলে আশা রাখি। সেই সামর্থ্য পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি।

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, নির্বাহী পরিচালক, ইউনিক সিমেন্ট