হালকা প্রকৌশল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে

বাজেট কতটুকু ব্যবসাবান্ধব, তা বাস্তবায়ন শুরুর পর বোঝা যাবে। তবে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বলতে পারি, বাজেটের চরিত্রটি ছিল ব্যবসাবান্ধব। সেটির বড় প্রতিফলন ঘটেছে করপোরেট কর কমানোর ঘোষণার মধ্য দিয়ে। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই, করপোরেট কর আরও কমানো হোক। গত দুই বছরে করপোরেট কর ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। আশা করছি, ধাপে ধাপে সেটি আরও কমানো হবে। ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদের প্রধান কয়েকটি চাওয়া রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ব্যবসার খরচ কমানো, ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করা আর ভোগান্তি কমানো। করপোরেট কর কমানোর কারণে লাভজনক কোম্পানিগুলোর মুনাফা হয়তো আগের চেয়ে কিছুটা বাড়বে। কিন্তু যারা মুনাফা করে না, তাদের কোনো লাভ হবে না। কারণ, লাভ হোক বা লোকসান হোক, ন্যূনতম কর দিতেই হবে।

করোনার কারণে অনেক ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানও লোকসান করেছে। কিন্তু ন্যূনতম কর তাদের দিতেই হচ্ছে। আবার নতুন ব্যবসা শুরু করলে তাকেও এ কর দিতে হচ্ছে। তাই আমার প্রত্যাশা, বাজেট পাস হওয়ার আগে সরকার লাভ-লোকসাননির্বিশেষে ন্যূনতম করের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

ব্যবসার খরচ কমাতে হলে সবার আগে দরকার সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাগুলোকে সহজ করা। যতটা সম্ভব এ ধরনের ব্যবস্থা কমিয়ে আনা। কারণ, যেখানে যত বেশি নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ থাকে, সেখানে তত বেশি দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। কর কমানোর সুবিধার পাশাপাশি পুরো করব্যবস্থাটিকে অনলাইনে নিয়ে আসা দরকার। তাতে করদাতারা উপকৃত হবেন। এবারের বাজেটে কর ছাড়ের বিভিন্ন সুযোগ দেওয়া হলেও কর ব্যবস্থাসহ সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাগুলোর সহজীকরণের সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

তবে এবারের বাজেটে হালকা প্রকৌশলসহ দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কর অবকাশসহ নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এ সিদ্ধান্ত খুবই ভালো হয়েছে। এর ফলে দেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পৃথিবীর যেসব দেশ ভারী শিল্পে উন্নতি করেছে, তারা ভারী শিল্পে যাওয়ার আগে হালকা প্রকৌশল শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়েছে। সেদিক থেকে আমাদের গন্তব্য পথটিও ঠিক আছে। যদি আমরা হালকা প্রকৌশল শিল্পে ভালো উন্নতি করতে পারি, তবে ভবিষ্যতে ভারী শিল্পেও ভালো করব।

সরকার বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা দিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জের বাইরে হাসপাতাল করলে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ। আমাদের হাসপাতাল ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, হাসপাতাল ব্যবসা অন্য অনেক ব্যবসার চেয়ে ভিন্ন। একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি করা, মানুষের আস্থা অর্জন করতেই কয়েক বছর চলে যায়। এমনও দেখা যায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে চালুই করা যায় না কোনো কোনো বিভাগ। একটি ভালো মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে সেটিকে লাভজনক করতে অনেক বছর লাগে। তাই ভালো মানের হাসপাতালে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে কমপক্ষে ২০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া দরকার।

এবারের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়েই ওঠে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ওপর কীভাবে কর ধার্য হয়?

সম্প্রতি আমরা মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে সমুদ্রসীমা জয় করেছি। সেখানে সমুদ্র অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এবারের বাজেটে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা ছিল না। সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার স্বতন্ত্র একটি সংস্থা গঠন করতে পারে।