ক্রেডিট কার্ড সেবায় শীর্ষ ব্যাংকগুলোর একটি ব্র্যাক ব্যাংক। কার্ড নিয়ে প্রথম আলোকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের বাজার এখন কেমন?
সেলিম আর এফ হোসেন: দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রেডিট কার্ডের একটি উদীয়মান বাজার। এদিকে করোনা-পরবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এ জন্য ক্রেডিট কার্ডের বাজারে যথেষ্ট চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। করোনাকালে গ্রাহকেরা নগদ টাকার লেনদেন থেকে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকেছেন। আর ডিজিটাল লেনদেনের বড় মাধ্যম হলো ক্রেডিট কার্ড। সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ডের বাজার এই মুহূর্তে যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছে। ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকসংখ্যা বর্তমানে ২ লাখ ৪০ হাজার। বছরে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। গ্রাহক বাড়াতে প্রতিনিয়ত আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রথম আলো: কোনো গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয় ব্যাংকগুলো?
সেলিম আর এফ হোসেন: ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার সময় গ্রাহক ও ব্যাংকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টিতে বেশি জোর দেওয়া হয়। যেহেতু ক্রেডিট কার্ড একটি লাইফস্টাইল পণ্য, এখানে অন্যান্য ঋণের মতো নগদ টাকার প্রবাহ পর্যালোচনার চেয়ে বেশি লক্ষ রাখা হয় গ্রাহকের মাসিক আয়, সামাজিক অবস্থান, জীবনযাপনের ধারা, তার কর্মক্ষেত্র ও পদবি। এ ছাড়া গ্রাহকের পুরোনো ঋণ থাকলে তার অবস্থাও যাচাই করে নেওয়া হয়।
প্রথম আলো: লাইফস্টাইল পণ্য হিসেবে ক্রেডিট কার্ড কি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে?
সেলিম আর এফ হোসেন: করোনার আগের কয়েক বছরজুড়েই ক্রেডিট কার্ডের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর মহামারিকালে গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবনযাপনের এক অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত হয় ক্রেডিট কার্ড। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন কেনাকাটার জন্য অনেক গ্রাহকের প্রথম পছন্দ ক্রেডিট কার্ড। গত দুই বছরে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রথম আলো: নিরাপদ লেনদেনের জন্য ক্রেডিট কার্ডে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে?
সেলিম আর এফ হোসেন: বর্তমানে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পিন ও ওটিপির ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতেই আমরা প্লাস্টিক কার্ডের বদলে ভার্চ্যুয়াল কার্ডের ব্যবহার দেখতে পাব। মোবাইল ফোনভিত্তিক লেনদেনে কার্ডের গ্রাহকদের আগ্রহী করতে ইতিমধ্যে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়েছে।
প্রথম আলো: গ্রামগঞ্জে ক্রেডিট কার্ড জনপ্রিয় করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্যাংকগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে?
সেলিম আর এফ হোসেন: এজেন্ট ব্যাংকিং এবং উপশাখার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে গ্রামগঞ্জেও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। এখন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ওয়ালেট টপআপ করা যায় এবং গ্রামগঞ্জেও কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সবার সম্মিলিত পদক্ষেপে গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন লেনদেনের ক্ষেত্রে অচিরেই ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।