অভিমত

ডিজিটাল লেনদেনে দরকার প্রণোদনা

সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, কান্ট্রি ম্যানেজার, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ
সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, কান্ট্রি ম্যানেজার, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ

করোনা মহামারিতে লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে ‘পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’। সময়ের চাহিদায় গ্রাহকেরা এখন ঝুঁকছেন ডিজিটাল লেনদেনে। এ কারণে বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপ্তি। কমে আসছে কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রার (ক্যাশ) ব্যবহার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বর্তমানে টেকসই ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন, বিশেষ করে কন্ট্যাক্টলেস বা স্পর্শবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক কন্ট্যাক্টলেস ডেবিট প্রিপেইড কার্ডের অনুমোদন দিয়েছে। এতে দেশজুড়ে ডিজিটাল লেনদেনের প্রবণতা আরও গতি পাবে।

এখন সরকারের উচিত কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা তথা নগদ অর্থের বিকল্প একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা। অর্থব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফলও দেশগুলো পাচ্ছে। আমাদেরও সেদিকে এগোতে হবে।

অর্থনীতির সত্যিকার ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য এখনই অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। কারণ, ক্যাশনির্ভর অর্থব্যবস্থা পরিচালনা বেশ ব্যয়সাধ্য। লেনদেনের পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের বাড়তি ঝামেলাও রয়েছে। প্রিন্ট করা অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদন বলছে, নগদনির্ভর লেনদেনের জন্য প্রতিবছর দেশের খরচ হচ্ছে ৯ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন দোকান ও ব্যাংক সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ ব্যবহার করে, যা মোট নগদ টাকা ব্যবহারের ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ১৩ শতাংশ, সরকার ১০ শতাংশ ও ব্যক্তি খাতে ৬ শতাংশ নগদ টাকার ব্যবহার হয়ে থাকে।

এদিকে মাস্টারকার্ডের বৈশ্বিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জন কন্ট্যাক্টলেস লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তাই সহজ ও নিরাপদ আর্থিক লেনদেনের জন্য কন্ট্যাক্টলেস কার্ডের ব্যবহার বাড়াতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে মাস্টারকার্ড।

এই খাতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে দেশে নগদ টাকার সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা কমবে। আর কন্ট্যাক্টলেস লেনদেন দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। আগামী বাজেটে ডিজিটাল লেনদেন খাতে ৫ শতাংশ প্রণোদনার সুপারিশ করেছেন এ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, যার ৩ শতাংশ পাবেন ব্যবহারকারী ও ২ শতাংশ যাবে মার্চেন্টদের কাছে। এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেনে ভ্যাট ও কর মওকুফ করা জরুরি।