সাক্ষাৎকার : কামাল কাদীর

ডিজিটাল লেনদেন বেশি শহরাঞ্চলে

কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধসহ নানা ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ছে। এ নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর

কামাল কাদীর, সিইও, বিকাশ
কামাল কাদীর, সিইও, বিকাশ
প্রশ্ন

প্রথম আলো: উৎসব এলেই টাকার হাতবদল বেড়ে যায়। সঙ্গে বাড়ে ডিজিটাল লেনদেনও। এবার ঈদকে সামনে রেখে ডিজিটাল লেনদেন কতটা বাড়বে বলে আশা করছেন?

কামাল কাদীর : সাধারণত বছরে কয়েকটি উৎসবকে কেন্দ্র করেই কেনাকাটা বেশি হয়ে থাকে। ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেমটি দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় এখন অনেক বিক্রেতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। গ্রাহকেরাও অন্যান্য সব ডিজিটাল লেনদেনের মতো কেনাকাটার পর অর্থ পরিশোধ করছেন মোবাইল ওয়ালেট দিয়ে। আর এ সময়টাতেই বিকাশ তার গ্রাহকদের সাশ্রয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুযোগ দিতে নিয়ে আসে নানা ধরনের অফার। আমরা আশা করছি করোনা পরবর্তী এবারের উৎসব হবে আরও আনন্দময় ও বর্ণিল।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: উৎসবে বিকাশে লেনদেন বেশি হয় কোন এলাকায়? আর কোন বয়সের ও কোন পেশার মানুষ মোবাইলে বেশি লেনদেন করে।

কামাল কাদীর: ঈদ, পয়লা বৈশাখ, দুর্গাপূজা—এমন যেকোনো উৎসবের মৌসুমেই মানুষের কেনাকাটা বেড়ে যায়। এ সময়টাতে ডিজিটাল লেনদেন বেশি হয় শহরাঞ্চলেই। তবে গ্রাহকদের আগ্রহ ও অভ্যস্ততা দুটো বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের বাইরেও এখন ডিজিটাল লেনদেনে আগ্রহ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: বিকাশ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে বেশ এগিয়েছে। ব্যাংক বা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা আসছে। বিকাশ থেকে ব্যাংকে টাকা যাচ্ছে। সামনে আরও কী ধরনের সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা?

কামাল কাদীর: উদ্ভাবনী ও গুণগত সেবা দিয়ে এরই মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের সদস্য হয়েছে বিকাশ। ছয় কোটি গ্রাহকের আস্থা নিয়ে বিকাশ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিকাশ সব সময়ই বিশ্বসেরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকবান্ধব নতুন নতুন সেবা চালু করে। একই সঙ্গে নিরাপদ নগদবিহীন লেনদেন বা ক্যাশলেস লেনদেন উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এভাবেই গ্রাহকের আর্থিক লেনদেনে আরও স্বাচ্ছন্দ্য, স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এনে দেওয়ার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে বিকাশ।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: সম্প্রতি আমানত ও ঋণের মতো সেবাও চালু করেছে বিকাশ। সামনে নতুন নতুন কী সেবা আসবে?

কামাল কাদীর: বিকাশ সব সময় গ্রাহকদের প্রয়োজনকে মাথায় রেখে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন সেবা চালু করে। আগের বিভিন্ন সেবার পাশাপাশি বিকাশ গ্রাহকেরা এখন প্রবাসী আয় গ্রহণ, বিদেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় গ্রহণ, ব্যক্তিগত হিসাব, ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো ঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয়ী সেবা পাচ্ছেন। গ্রাহকদের চাহিদা মাথায় রেখে সামনের দিনেও উদ্ভাবনী সেবা চালুর ধারা অব্যাহত থাকবে।

একটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ সব সময়ই আধুনিকতম প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন সেবা প্রচলনে অগ্রগামী। তাই, বিকাশে প্রতিদিনই হাজার হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: টাকা উত্তোলনে খরচ বেশি, এ কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা বিকাশে কম লেনদেন করছেন বলে অনেকের ধারণা। বিষয়টা কি তাই?

কামাল কাদীর: বিষয়টি মোটেও তা নয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ও তাঁদের পণ্যের ক্রেতারা যেন বিকাশ ব্যবহার করে উপকৃত হন, সে জন্য আমরা চালু করেছি পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট, যা ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে। তা ছাড়া, দেশজুড়ে আমাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকায় গ্রাহকেরা ডিজিটাল টাকা ডিজিটাল পদ্ধতিতেই ব্যবহারে অভ্যস্ত হচ্ছেন। এই যেমন উৎসবের এই মাসে অসংখ্য গ্রাহক নগদ টাকা এড়িয়ে বিকাশের মাধ্যমেই প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবা কিনতে পারছেন। ফলে টাকা উত্তোলনের আর দরকার হচ্ছে না। এই পদক্ষেপগুলো দেশকে নগদবিহীন লেনদেন ইকোসিস্টেমের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে শুধু গ্রাহক, ব্যবসায়ীরাই নয়, উপকৃত হচ্ছে দেশের অগ্রসরমান অর্থনীতিও।