তিন বছরের মধ্যেই নগদ এখন গ্রাহকসেবায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এমএফএস। নগদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) এখন জনপ্রিয় লেনদেন–ব্যবস্থা। আগামী পাঁচ বছরে বাজার কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে বলে মনে করেন?
তানভীর আহমেদ: পাঁচ বছর পরের ছবি যদি আমি এখনই আঁকতে চাই, তাহলে কয়েক বছর পেছনে ফিরে তাকালেও একটা ধারণা মিলবে। আমার বিবেচনায়, লেনদেনের অঙ্কে এখন বাজারের যে কলেবর আছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেটি বেড়ে অন্তত ১০ গুণ হবে। লেনদেনের পরিমাণ ও অর্থের অঙ্ক বিবেচনা করে আমি এই উন্নতির কথা বলছি। আমি তো দেখতে পাচ্ছি, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতে৵ক মানুষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করবেন এবং তাঁরা সব ধরনের লেনদেন করবেন মুঠোফোনে। নগদের একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করি। দৈনিক ১০০ কোটি টাকার লেনদেনের মাইলফলক অর্জন করতে আমাদের ১০ মাস সময় লেগেছে। অথচ দৈনিক গড়ে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার লেনদেনে আসতে সময় লেগেছে সব মিলিয়ে দুই বছর। লেনদেনের অঙ্কটা আসলে এভাবেই বাড়বে।
তবে গ্রাহকসংখ্যা বিবেচনায় হয়তো তত উন্নতি হবে না। কারণ, ইতিমধ্যে আমরা সবাই মিলে ১১ কোটির বেশি গ্রাহক তৈরি করে ফেলেছি। যদিও এর মধ্যে ইউনিক গ্রাহক কত আছেন সেটি বিবেচনার দাবি রাখে। তবে আমরা নগদের পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমাদের গ্রাহকসংখ্যা মাত্র তিন বছরেই ছয় কোটি পেরিয়েছে।
প্রথম আলো: এমএফএস কি ডিজিটাল লেনদেনে ব্যাংক কার্ডগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফেলবে?
তানভীর আহমেদ: দেশে ব্যাংক হিসাব বা কার্ডের সংখ্যা কত আছে সেটা আপনারা ভালোই জানেন। তবে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়েছে এমএফএস অপারেটররা। কার্ডও দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এমএফএস এখনই লেনদেনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমার মতে, সামনের দিনে এমএফএসই হবে লেনদেনের মূল মাধ্যম।
প্রথম আলো: এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনে আপনাদের অবস্থান এখন কত নম্বরে?
তানভীর আহমেদ: আমাদের সেবার বয়স তিন বছর। দেড় বছরের মধ্যেই আমরা দ্বিতীয় স্থানে চলে আসি। তবে আমাদের কাছে এ বিষয়ে তুলনামূলক হিসাব নেই। আমি কেবল বলতে পারি, নগদের গ্রাহকদের প্রতিদিনের গড় লেনদেনের পরিমাণ সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার বেশি, যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আমাদের গ্রাহকসংখ্যা গত মাসেই ৬ কোটি ১০ লাখ পেরিয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সোয়া ২ লাখ উদ্যোক্তা পয়েন্ট ও ৩১ হাজার মার্চেন্ট পয়েন্ট রয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব সেবা থাকার পরেও আমরা সারা দেশে ৫৯১টি সেবা পয়েন্ট রেখেছি। এর বাইরে এমন কিছু সেবা আমাদের আছে যা বাজারে আর কারও নেই।
প্রথম আলো: আপনারা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র নিয়ে ব্যবসা করছেন। কবে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পাবে নগদ? এটা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি আছে।
তানভীর আহমেদ: অনাপত্তিপত্রও কিন্তু অনুমোদন। আমরা শুরু থেকেই আইনি বৈধতার মধ্যে সব রকম নিয়ম মেনে গ্রাহকদের জীবনকে আরও সহজ করতে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দিয়ে আসছি। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এমএফএসবিষয়ক নীতিমালায় সংশোধন এনেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত লাইসেন্স পাব এবং বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করার মতো সেবা নিয়ে আসব। গ্রাহকদের মধে৵ আমরা কোনো বিভ্রান্তি দেখি না; বরং শুরু থেকেই আমাদের সেবা যেহেতু আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেহেতু একটি স্বার্থান্বেষীমহল গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা এতে মোটেও অবাক হইনি।
প্রথম আলো: অন্যান্য এমএফএস থেকে গ্রাহকদের বিশেষ কী সুবিধা দিচ্ছে নগদ?
তানভীর আহমেদ: অংশীদারত্বে সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকায় আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, সেবা প্রদান। ব্যবসা অবশ্যই লাগবে, না হলে টিকে থাকতে পারব না। কিন্তু সেবা ঠিক রেখেই আমরা ব্যবসা করতে চাই। তাই সবার আগে ক্যাশ আউট রেট কমিয়েছি। আমরাই প্রথম বাজারে সেন্ড মানি ফ্রি এবং ফ্রি বিল পেমেন্টের সুবিধা নিয়ে আসি। এখন বাধ্য হয়ে অন্যরাও সীমিত আকারে সেন্ড মানি আর বিল পেমেন্ট ফ্রি করেছে। নগদ থেকে সরকারের ভাতা-উপবৃত্তিকে আমরা ডিজিটাল করেছি। করোনার সময়ে এটি চমৎকার কাজ করেছে। আমরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা করোনা পরীক্ষার ফি মুঠোফোনে পরিশোধের ব্যবস্থা করি। তা ছাড়া প্রথম থেকেই আমাদের ইসলামিক অ্যাকাউন্ট আছে। যাঁরা ইসলামিক লেনদেনে আগ্রহী, তাঁদের জন্য শরিয়াসম্মত সুদবিহীন লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি শরিয়া বোর্ড দ্বারা আমাদের এই সেবা পরিচালিত হয়।