বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক

খেলাপি ঋণ নবায়নে বিশেষ সুবিধা জাহাজনির্মাণ শিল্পে

মাত্র দেড় শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে ঋণ নবায়ন করতে পারবেন রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজনির্মাণ শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা। আর ঋণ নবায়ন হলে ১০ বছর পর্যন্ত পরিশোধের সময় পাবেন এসব খাতের উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি সুবিধাও পাওয়া যাবে। এসব সুবিধা দিয়ে রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজনির্মাণ শিল্পকে সচল রাখতে ঋণ পুনঃ তফসিল ও পুনর্গঠনে বিশেষ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ইউরোপের সামরিক অস্থিতিশীলতা এবং সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নের কারণে জাহাজনির্মাণ খাতের নগদ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায় ও শিল্প খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রেণিকৃত জাহাজনির্মাণ শিল্পের ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব পুনঃ তফসিল করতে চাইলে মোট ঋণ স্থিতির ওপর ৩ শতাংশ এককালীন জমা দিতে হবে। এর মধ্যে দেড় শতাংশ পুনঃ তফসিল আবেদনের সময় এবং অবশিষ্ট দেড় শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থগিত সুদ ও অনারোপিত সুদ পৃথক হিসাবে স্থানান্তর করে অবশিষ্ট ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে এবং দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ বিশেষ সুবিধায় পুনঃ তফসিল করা যাবে। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আর ব্লকড হিসাবে সংরক্ষিত সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদবিহীনভাবে পৃথক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আলোচ্য বিশেষ পুনঃ তফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে নতুন ঋণসুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট পরিশোধের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ যথানিয়মে শ্রেণিকৃত হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো পুনঃ তফসিল বা পুনর্গঠনের সুযোগ থাকবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক প্রকৃত অর্থে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। এই বিশেষ সুবিধার আওতায় পুনঃ তফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য গ্রাহকেরা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।