আজ বুধবার সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এসবিএসি ব্যাংক চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান
আজ বুধবার সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এসবিএসি ব্যাংক চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান

ব্যাংকে আমানতকারীদের টাকা পুরোপুরি নিরাপদ: এসবিএসি ব্যাংক চেয়ারম্যান

সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাংকে আমানতকারীদের টাকা পুরোপুরি নিরাপদ আছে। গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশ ও গ্রাহকদের প্রতি ব্যাংকের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আজ বুধবার সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মোখলেসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল কবীর, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিউল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীর সানমুন স্টার টাওয়ারে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতের মূল ভিত্তি হলো আস্থা। দীর্ঘদিনের নৈতিক চর্চা ও মানদণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমে এই আস্থা গড়ে ওঠে, কিন্তু তা তৈরি করতে সময় লাগে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল রয়েছে। পর্ষদ আস্থা পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

ঋণের টাকা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মোখলেসুর রহমান বলেন, নির্ধারিত খাতে ঋণের টাকা ব্যবহার হলে ব্যবসায় ক্ষতি হলেও তা পুনরুদ্ধার সম্ভব। কিন্তু ঋণের টাকায় জমি কেনা বা অননুমোদিত খাতে ব্যবহার করলে তা ব্যাংকিং শৃঙ্খলার বাইরে চলে যায়।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান (অ্যাসেট কোয়ালিটি) বর্তমানে চাপে রয়েছে। এটি একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা লভ্যাংশ প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কাজ চলছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল কবীর বলেন, গ্রাহকদের আস্থার ভিত্তিতেই ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে। সেই আস্থা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং আগ্রাসী বিনিয়োগের পরিবর্তে যাচাই-বাছাই করে ভালো গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মঈনুল কবীর বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বড় ঋণ গ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা দিয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।

মঈনুল কবীর জানান, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।