বন্যাদুর্গতদের পাশে স্যাভলন মোবাইল হাসপাতাল

স্যাভলন মোবাইল হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, একজন নার্স এবং দুজন সাহায্যকর্মী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন
 ছবি: বিজ্ঞপ্তি

এমনিতেই যখন করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনে নাজুক অবস্থা, তার ওপর সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ বন্যা মানুষকে আরও সংকটে ফেলে দিয়েছে। সংকটের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে অসহায়, দরিদ্র এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী। স্কুলে, রাস্তায় বা উঁচু জায়গায় বন্যাকবলিত এসব মানুষ একসঙ্গে গাদাগাদি করে থাকছে। এ জন্য একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে তেমনি দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই।

বন্যাদুর্গত এসব মানুষের কথা চিন্তা করে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্যাভলন এবং বেসরকারি সংস্থা আগ্রহের উদ্যোগে ১০ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে স্যাভলন মোবাইল হাসপাতাল। হাসপাতালটি ঢাকা জেলার সাভার ও ধামরাই উপজেলা এবং মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই মোবাইল হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, একজন নার্স এবং দুজন সাহায্যকর্মী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে।

কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতালটির মাধ্যমে সাধারণ চিকিৎসা এবং প্রাথমিক শল্য চিকিৎসা উভয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনা রোগ থেকে প্রতিরোধের উপায় নিয়ে পরামর্শ এবং হাত ধোয়ার জন্য সাবানও বিতরণ করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধের সব নিয়ম মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। স্যাভলন এবং আগ্রহের এ রকম ব্যতিক্রমধর্মী চিকিৎসা কার্যক্রমে এলাকার মানুষ এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসন সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

আগ্রহের হেড অব স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট দূরদানা তাবাসসুম নওরীনের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। আগ্রহের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম রিদওয়ানুল হক এ মহৎ উদ্যোগে সহায়তার জন্য স্যাভলনকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, স্যাভলন মোবাইল হাসপাতালের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও এই হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। বিজ্ঞপ্তি