
ট্রাস্ট ব্যাংক গ্রাহকদের আয়ের ধরন, পরিবেশবান্ধব গাড়িতে বিশেষ সুবিধা এবং সমন্বিত ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অটো লোন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের অটো লোন সুবিধা, পরিবেশবান্ধব গাড়িতে ছাড় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক।
বিভিন্ন পেশার গ্রাহকদের জন্য ট্রাস্ট ব্যাংকের অটো লোনে কী ধরনের বিশেষ ক্যাটাগরি রয়েছে?
আহসান জামান চৌধুরী: আমরা রিস্ক-বেসড ও কাস্টমার-সেগমেন্টভিত্তিক অর্থায়ন অনুসরণ করি। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে অগ্রাধিকারমূলক সুদের হার ও দ্রুত অনুমোদন সুবিধা। করপোরেট পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল বিবেচনায় প্রেফারেনশিয়াল সুবিধা দেওয়া হয়। আর নিজস্ব বাসস্থানের মালিক এমন সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ডেট বার্ডেন রেশিও (ডিবিআর) সুবিধা দেওয়া হয়।
গ্রিন ব্যাংকিংয়ের অধীন ইভি ও হাইব্রিড গাড়িতে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে?
আহসান জামান চৌধুরী: পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে আমরা প্রচলিত গাড়ির তুলনায় ইভি ও হাইব্রিড গাড়িতে ১ শতাংশ কম সুদের হারে বিশেষ অটো লোন দিচ্ছি। গ্রাহকদের গ্রিন প্রযুক্তিতে আগ্রহী করা ও সাসটেইনেবল মোবিলিটি তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
প্রচলিত ও ইভি বা হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে লোনের সর্বোচ্চ সীমা ও মেয়াদ কত?
আহসান জামান চৌধুরী: ইভি ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য গাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা রয়েছে। সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বা ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া নতুন গাড়ির জন্য ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬ বছর এবং রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জন্য ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
শোরুম টাই-আপে গ্রাহকদের বাড়তি কোনো সুবিধা দেন কি?
আহসান জামান চৌধুরী: পার্টনার শোরুম থেকে গাড়ি কিনলে গ্রাহকেরা বিশেষ সুদের হার, দ্রুত ঋণ প্রসেসিং এবং ১-২টি ফ্রি সার্ভিসিং পান। পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ক্রয়ের পূর্বে গাড়ি ইন্সপেকশনে ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ডহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় সুবিধা রয়েছে।
ঋণ আবেদনের যোগ্যতা ও গ্যারান্টার শর্ত কতটা সহজ করা হয়েছে?
আহসান জামান চৌধুরী: চাকরিজীবী ও পেশাজীবীদের জন্য ন্যূনতম মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ৪০ হাজার টাকা। অটো লোনে গ্যারান্টার হিসেবে শুধু ১ জন (স্বামী বা স্ত্রী) হলেই চলে। কো-অ্যাপ্লিকেন্ট রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তবে আয় বাড়িয়ে ঋণযোগ্যতা বাড়াতে চাইলে তা যুক্ত করা যায়।
কিস্তি পরিশোধ সহজ করতে ডিজিটাল ব্যাংকিং কীভাবে সহায়তা করছে?
আহসান জামান চৌধুরী: আমাদের ‘ট্রাস্ট মানি’ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকেরা ২৪/৭ যেকোনো স্থান থেকে ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারছেন। এমনকি বিইএফটিএনের মাধ্যমে অন্য ব্যাংক থেকেও ব্যাংকে না এসে সহজেই কিস্তি পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা তৈরিতে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাবনা কী?
আহসান জামান চৌধুরী: আমরা শুধু গাড়ি কেনার ঋণ দিতে চাই না; বরং টেকসই পরিবহনব্যবস্থার দিকে মানুষকে পরিচালিত করতে চাই। একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রিন ফাইন্যান্সিং ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে ট্রাস্ট ব্যাংক অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।