
ঢাকার নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা ও কাঠাপ্রতি মনগড়া ইউনিটসংখ্যা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ভূমি মালিক সমিতি। তারা বলেছে, নতুন ড্যাপের কারণে ঢাকায় দুই লাখেরও বেশি জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা ভূমি মালিক সমিতির প্রধান সমন্বয়ক দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক তানভীরুল ইসলাম চৌধুরী, কে এম এজাজ মাহমুদ, হুমায়ূন কবির, রেজাউল হোসেন প্রমুখ। ভূমি মালিক সমিতির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রধান সমন্বয়ক দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ বলেন, নতুন ড্যাপে জমির মালিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভবনের উচ্চতা ও আয়তন অযৌক্তিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই পরিমাণ জমিতে আগে যেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, সেখানে বর্তমানে ৫ তলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে জমির মালিকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এম এ সাজ্জাদ অভিযোগ করেন, ড্যাপে কাঠাপ্রতি ইউনিটসংখ্যা হ্রাস ও ফার কমিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ড্যাপ পাস হওয়ার পরও নিয়ম ভেঙে অনেক ভবন নির্মিত হচ্ছে। অনেক নদী–নালা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। কিন্তু সেদিকে সরকারের কোনো নজর নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নগর–পরিকল্পনাবিদেরা যে পরিকল্পনা করেছেন, সেটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাঁরা ঢাকার যে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে অনেক লোকের ঢাকা ছাড়তে হবে। সেই লোকগুলো কোথায় কীভাবে থাকবেন, সেই পরিকল্পনা নেই।
ভূমিমালিকেরা বৈষম্যমূলক ফার পদ্ধতি ও কাঠাপ্রতি ইউনিটসংখ্যা বাতিল, নির্মাণ অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজীকরণ, রাজউকের হয়রানি বন্ধ করা এবং ড্যাপ সংশোধনী–সংক্রান্ত সভায় ঢাকার ভূমি মালিক সমিতিকে অংশীজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।