চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণে গতি এল। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রকল্প পাস করা হয়েছে। এই অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা খরচ হবে। প্রকল্পের শিরোনাম—চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প পাস হয়। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। ২০১৬ সালে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়। নানা কারণে প্রকল্পটি থমকে থাকে।
এই প্রকল্পের আওতায় সোয়া এক কিলোমিটার জেটি লিংক রোড নির্মাণ করা হবে। এক কিলোমিটারের বেশি লিংক রোডও হবে। এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস–সংযোগের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার গ্যাস–সংযোগ লাইন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া থাকবে পানি সংরক্ষণাগার। সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এসব অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে সম্ভাবনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে। এ ছাড়া এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এসব অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এবং শেষ হবে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর মাসে। পুরো প্রকল্পের মধ্যে দেশজ উৎস থেকে দেওয়া হবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়, তবে নানা জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে যায়। এর মধ্যে ছিল ঠিকাদার নিয়োগ ও মালিকানাসংক্রান্ত জটিলতা। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর চীনা একটি ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হলেও চূড়ান্ত হয়নি।
২০২২ সালে চীনা সরকারের পক্ষ থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডেভেলপার—দুই ভূমিকায় কাজ করতে পারে না। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সেটা আটকে যায়।
নতুন সরকার আসার পর প্রকল্পটি আবার গতি পায়। প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প পাস করা হয়। চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যাওয়ার কথা আছে। সেখানে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। কয়েকটি সমঝোতা স্মারক করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
একনেক সভায় সব মিলিয়ে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলো হলো ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ; নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়); করতোয়া নদীব্যবস্থা উন্নয়ন; পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ও কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধিত) এবং ১০০টি উপজেলায় ১টি করে কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলোতে মোট অর্থায়নের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।