আইডিএলসি–প্রথম আলো

পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত উদ্যোক্তারা যা বললেন

আইডিএলসি–প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার ২০২২-প্রাপ্ত বিজয়ীরা অতিথিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেয়। (বা থেকে বসা) পুরস্কারপ্রাপ্ত আল–মামুন, মাকসুদা খাতুন, আয়মান সাদিক, মোসাম্মাৎ বিউটি বেগম, মোহাম্মদ ইমরুল হাসান ও সুবীর নকরেক। (বাঁ থেকে দাঁড়িয়ে) মতিউর রহমান, মো. জাকের হোসেন, নাজনীন আহমেদ, মো. মাসুদুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এম জামাল উদ্দিন, মুহাম্মদ গাজী তৌহীদুর রহমান, ফারজানা খান এবং খোন্দকার সিদ্দিক–ই–রব্বানী। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টালে
ছবি: প্রথম আলো

কারও জন্য এটি প্রথম কোনো বড় স্বীকৃতি, কারও জন্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস। কেউ কেউ জানান, এটি তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মনোবল বাড়াবে। আবার কোনো কোনো উদ্যোক্তা মনে করেন, জাতির প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে।  

আইডিএলসি–প্রথম আলো এসএমই পুরস্কার পাওয়ার পরে বিভিন্ন খাতের ছয় উদ্যোক্তা এভাবেই তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা এমন একটি মর্যাদাশীল পুরস্কার দেওয়ায় প্রথম আলো ও আইডিএলসি ফিন্যান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করেন। রাজধানীর ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিজয়ী উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

উৎপাদন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও নারী উদ্যোক্তা—এই ছয়টি শ্রেণিতে সেরা সাত উদ্যোক্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজন সশরীর উপস্থিত হতে পারেননি। বাকি ছয় উদ্যোক্তা প্রথম আলোর কাছে পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানান।

কৃষি খাত

মোহাম্মদ ইমরুল হাসান

এই পুরস্কার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস জোগাবে
— মোহাম্মদ ইমরুল হাসান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, অর্গানিক চিকেন।
আমার উদ্যোগের জন্য কোনো বড় প্ল্যাটফর্ম থেকে এই প্রথম কোনো স্বীকৃতি পেলাম। এই পুরস্কার আমাদের কাজের ক্ষেত্রে অনেক উৎসাহ দেবে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য সাহস জোগাবে।
‘পণ্যের মান নিয়ে কোনো আপস করব না’—এটি আমার ব্যবসার মূলমন্ত্র। বর্তমানে আমরা হোম ডেলিভারি দিচ্ছি। আগামীতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে আমার উদ্যোগকে বিস্তৃত করতে চাই। পাশাপাশি রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছি আমি।
উদ্যোক্তারা নিজেদের প্রচেষ্টায় কাজ করেন। তবে কেউ এসব কাজের স্বীকৃতি না দিলে কাজের জন্য অনুপ্রেরণা থাকে না। তাই আজকের পুরস্কার আমাদের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

শিক্ষা খাত

আইমান সাদিক

পুরস্কার পেলেই আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়
— আয়মান সাদিক, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, টেন মিনিট স্কুল।
যে কোনো পুরস্কার পেলেই শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। উদ্যোগের জন্য যখন পুরস্কার পাই, তখন মনে হয় আমাদের উদ্যোগের পথচলাটা একার ছিল না। শুরু করাটা হয়তো আমার দায়িত্ব ছিল, তবে এটিকে এগিয়ে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য বরাবরের মতো এই পুরস্কারটিও আমাদের যারা শিক্ষার্থী আছে, তাদের উৎসর্গ করতে চাই।

প্রথম আলো ও আইডিএলসি দুটিই আমার প্রিয় দুই প্রতিষ্ঠান। টেন মিনিট স্কুল যখন জনপ্রিয় হয়নি তারও অনেক আগে থেকে এই দুই প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করেছে। তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা অনেকটা আত্মিক। তাদের সঙ্গে যেকোনো অনুষ্ঠান করাটাই আমার জন্য আনন্দের। তবে তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক একটা স্বীকৃতি পাওয়া এক বিশাল ব্যাপার।

বাংলাদেশ সমস্যায় জর্জরিত একটা দেশ। কেউ যদি খোঁজে, তাহলে চারপাশে প্রচুর সমস্যা আছে সমাধান করার মতো। উদ্যোক্তাদের আমি বলব, বিদ্যমান সমস্যার ডিজিটাল বা প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করার উদ্যোগ আমরা নিতে পারি।

নারী উদ্যোক্তা

সেরা নারী উদ্যোক্তা শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছেন শাবাব লেদারের উদ্যোক্তা মাকসুদা খাতুন

স্বীকৃতির আনন্দ কখনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়
— মাকসুদা খাতুন, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, শাবাব লেদার।

প্রতিটা প্রাপ্তিই অন্যরকম। অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে উদ্যোগটাকে এগিয়ে নিচ্ছি। এ অবস্থায় আমাদের কাজকে যখন সবাই মিলে স্বীকৃতি দেয় তখন সেই আনন্দ কখনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

আইডিএলসি-প্রথম আলোর এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। এই প্রাপ্তিকে সঙ্গে করে শাবাব লেদার ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত যারা শাবাব লেদার সম্পর্কে জানেন না, তাঁরা ভালো করে জানবেন। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেল। এই উদ্যোগকে কীভাবে আরও পূর্ণতা দেওয়া যায় সেই প্রচেষ্টা জারি রাখব আমরা।  

স্বাস্থ্য খাত

স্বাস্থ্য শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইজি লাইফ ফর বাংলাদেশের উদ্যোক্তা মোসাম্মাৎ বিউটি বেগম

কামনা করি, এমন পুরস্কার আজীবন চলতে থাকুক
— মোসাম্মাৎ বিউটি বেগম, প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি, ইজি লাইফ ফর বাংলাদেশ।
এতটা খুশি হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। খুব ছোট জায়গায় দুজন কর্মী নিয়ে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করি। বড় পরিসরে সমাজের কাছে এটি তুলে ধরতে পারব তা কখনো ভাবিনি।

আজকের আইডিএলসি-প্রথম আলো পুরস্কার আমার জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এই পুরস্কার পাবার পরে আমি এখন আশ্বস্ত যে ভবিষ্যতে আমি আরও ভালো করতে পারব।

আইডিএলসি ও প্রথম আলো আমার মতো সাধারণ মানুষকে যেভাবে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে এ জন্য তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়ার এমন পুরস্কার আজীবন চলতে থাকুক, এই কামনা করছি।

তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছেন নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সুবীর নকরেক

এখন নিজেদের অনন্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারছি
— সুবীর নকরেক, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট
এটা আমার কাছে ও নকরেক আইটি পরিবারের কাছে ঐতিহাসিক একটা মুহূর্ত। এ জন্য প্রথম আলো ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সকে ধন্যবাদ জানাই। ভালো কাজে সব সময় চ্যালেঞ্জ আসবে। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য নিজের দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস ও এগিয়ে যাওয়ার একটা মনোবল থাকতে হবে। আমরা চেষ্টা করেছি, এগিয়ে যাওয়ার জন্য। সফলতা আসলে কখনো একটা গন্তব্য নয়, এটা একটা যাত্রা মাত্র।  

প্রথম আলো ও আইডিএলসি—দুটিই হচ্ছে শক্তি ও অনুপ্রেরণার নাম। তাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আমাদের স্বীকৃতি ও সম্মান দেশব্যাপী জানছে। তাঁদের এই স্বীকৃতির সুবাদে এখন আমরা নিজেদের অনেকের কাছে অনন্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারছি।

উৎপাদনশিল্প

উৎপাদনশিল্পে পুরস্কার পেয়েছেন মাস্টার র‌্যাকস অ্যান্ড ফার্নিচারের উদ্যোক্তা আল–মামুন

এই স্বীকৃতি আমার কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে
আল–মামুন, প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার, মাস্টার র‌্যাকস অ্যান্ড ফার্নিচার।
আইডিএলসি–প্রথম আলো পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আমার ১৪৫টি পরিবার এই স্বীকৃতি একযোগে উদ্‌যাপন করছে। আমি দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এই স্বীকৃতি আমার কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে।

উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য প্রথম আলো ও আইডিএলসি যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে, এটা সুদূরপ্রসারী একটা কাজ। এই পুরস্কার উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে। একটা জাতির ভাগ্যোন্নয়নে এই স্বীকৃতি কখন যে কাজে লেগে যাবে তা আমরা জানি না। এই উৎসাহ কোনো একদিন এমন একজন উদ্যোক্তা তৈরি করবে, যে পুরো বাংলাদেশটাকে বদলে দেবে।