
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে দেশের জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট: বাংলাদেশের প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ কথা বলেন চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, এসব কারণে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সরকারকে দেশি–বিদেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হবে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের দাম, পরিবহন খরচ ও খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা আছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে এই গোলটেবিল আলোচনা হয়।
এদিকে গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংক তাদের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংস্করণে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। দারিদ্র্য কমার গতি কমে যাবে। যত মানুষের দারিদ্র্যের অবস্থার উত্তরণ ঘটার কথা, তত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবেন না।ো
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে এই গোলটেবিল আলোচনা হয়।
এদিকে গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংক তাদের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংস্করণে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। দারিদ্র্য কমার গতি কমে যাবে। যত মানুষের দারিদ্র্যের অবস্থার উত্তরণ ঘটার কথা, তত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবেন না।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কী সমস্যা হলো
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কী সমস্যা হলো, তা নিয়েও কথা বলেছেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিন আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে দেশের শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, ইস্পাত ও ওষুধশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তাঁর মতে, জ্বালানিসংকটের ফলে বিদ্যুৎ খাতেও বাস্তবতা উদ্বেগজনক। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস–সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সরবরাহে চাপ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ফলে দেশের রপ্তানি খাতেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন তাসকিন আহমেদ। তিনি জানান, রপ্তানিতে কনটেইনারপ্রতি ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাসকিন আহমেদ বলেন, এলএনজি আমদানির ৫০–৭৫ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ৩০ থেকে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানিতে মাসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।