এমজির ব্র্যান্ডের এইচএস সিরিজের এসইউভি গাড়ি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে র‍্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেড। এমজির এইচএস সিরিজের সুপার হাইব্রিড মডেলের গাড়ি। আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানের র‍্যানকন কার হাব লিমিটেডের বিক্রয়কেন্দ্রে
এমজির ব্র্যান্ডের এইচএস সিরিজের এসইউভি গাড়ি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে র‍্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেড। এমজির এইচএস সিরিজের সুপার হাইব্রিড মডেলের গাড়ি। আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানের র‍্যানকন কার হাব লিমিটেডের বিক্রয়কেন্দ্রে

বাজারে এল এমজির নতুন গাড়ি, দাম ৪৯ লাখ টাকা

যুক্তরাজ্যের গাড়ির ব্র্যান্ড মরিস গ্যারেজের (এমজি) এইচএস সিরিজের নতুন দুই মডেলের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল) গাড়ি বাজারে আনল র‍্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেড। দেশের বাজারে এমজি ব্র্যান্ডের পরিবেশক হলো প্রতিষ্ঠানটি। দুই মডেলের গাড়ি হাইব্রিড।

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানের র‍্যানকন কার হাব লিমিটেডের বিক্রয়কেন্দ্রে এই গাড়ি বিক্রির ঘোষণা দেয় র‍্যানকন।

এ সময় জানানো হয়, এমজি ব্র্যান্ডের নতুন এই সিরিজের গাড়ি এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস ও এইচএস সুপার হাইব্রিড—এ দুটি মডেল বাজারে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস মডেলটি একটি প্রচলিত হাইব্রিড গাড়ি। গাড়িটি ব্যাটারি ও জ্বালানি—দুটিই ব্যবহার করে চলবে। এর দাম পড়বে ৪৯ লাখ টাকা। আর এমজি এইচএস সুপার হাইব্রিড প্লাস ধরনের গাড়িটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ধরনের গাড়ি; অর্থাৎ গাড়িটি শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও চলতে পারে। আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি—এই দুই মাধ্যম ব্যবহার করেও চলতে পারে। এই মডেলের গাড়ির দাম পড়বে ৫৯ লাখ টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন র‍্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূইয়া ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মাশনুর চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হাইব্রিড প্লাসে আছে

এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস মডেলের গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য। গাড়িটিতে রয়েছে এমজির স্মার্ট হাইব্রিড পাওয়ার সিস্টেম, যা সর্বোচ্চ ২২১ দশমিক ৩ বিএইচপি (ব্রেক হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। গাড়িটিতে রয়েছে দেড় হাজার সিসির ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন। আর গাড়িটির ফুয়েল ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ৫৫ লিটার। এই মডেলের গাড়িতে ১৬৭ মিলিমিটারের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স (মাটি থেকে গাড়ির কাঠামোর উচ্চতা) রয়েছে।

এইচএস হাইব্রিড প্লাস মডেলের গাড়িটিতে বুট স্পেস (গাড়ির পেছনে মালামাল রাখার জায়গা) ৫০৭ লিটারের। তবে পেছনের সিট সরিয়ে দিলে সেই জায়গা বেড়ে হবে ১ হাজার ৪৮৪ লিটার। গাড়িটি প্রচলিত হাইব্রিড গাড়ির মতো প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ও পেট্রল মোডের মধ্যে পরিবর্তন করে। প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা অতিক্রম করতে পারে গাড়িটি।

এমজির ব্র্যান্ডের এইচএস হাইব্রিড প্লাস মডেলের গাড়ি

সুপার হাইব্রিড মডেলে যা রয়েছে

এমজি এইচএস সুপার হাইব্রিড মডেলের গাড়িটি মূলত প্লাগ-ইন হাইব্রিড ধরনের গাড়ি। যাঁরা বৈদ্যুতিক গাড়ি চালাতে চান, তাঁদের জন্য এই গাড়ি। ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের এই গাড়িতে রয়েছে ২৪ দশমিক ৭ কিলোওয়াট আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গাড়িটি ১২০ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে পারে। আবার ব্যাটারির পূর্ণ চার্জ ও পূর্ণ জ্বালানি ট্যাংক একসঙ্গে চালালে গাড়িটির মোট চলার ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি।

এই মডেলের সঙ্গে বাসায় চার্জ দেওয়ার জন্য একটি ৭ দশমিক ৪ কিলোওয়াট হোম চার্জিং স্টেশন দেবে এমজি বাংলাদেশ। এর জন্য ক্রেতাদের কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না। এই মডেলের গাড়িতেও ফুয়েল ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ৫৫ লিটার। এই মডেলে রয়েছে ১৭৬ মিলিমিটারের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স।

এ দুটি মডেলের গাড়িতে রয়েছে পাঁচ বছর বা ১ লাখ কিলোমিটারের ওয়ারেন্টি সুবিধা। এ ছাড়া গাড়িটি কেনার পর মোট ছয়বার বিনা মূল্যে সার্ভিস পাবেন এর ক্রেতারা। দুই মডেলের গাড়িতেই স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা ফিচারের মধ্যে রয়েছে সাতটি এয়ারব্যাগ ও এমজি পাইলট এডিএএস লেভেল টু নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ ছাড়া গাড়ির বাইরের অংশে রয়েছে ১৯ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল ও এলইডি লাইটিং ব্যবস্থা। এই দুই মডেলের গাড়ি ক্যাশমিয়ার সিলভার মেটালিক, পার্ল ব্ল্যাক মেটালিক, ডায়মন্ড রেড মেটালিক, লুনার গ্রে মেটালিক ও পার্ল ওয়াইট মেটালিক এ পাঁচ ধরনের রঙে পাওয়া যাবে।

এর আগে সকালে নতুন এই মডেলের গাড়ি উন্মোচন অনুষ্ঠানে র‍্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূইয়া বলেন, বাংলাদেশ এখন পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্ট মোবিলিটির জন্য প্রস্তুত। এইচএস সিরিজের এই গাড়িগুলো একই ধরনের বাজারের অন্যান্য এসইউভি গাড়ির তুলনায় দামে অনেকটাই সাশ্রয়ী।

সে সময় র‍্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মাশনুর চৌধুরী বলেন, এইচএস হাইব্রিড প্লাস ও এইচএস সুপার হাইব্রিড মডেলের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি, উচ্চ জ্বালানি দক্ষতার গাড়ি নিয়ে আসতে পেরেছি। হাইব্রিড এসইউভি গাড়ির মধ্যে এই মডেলগুলো নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।