
বাড়ি কিংবা অফিস সাজাতে আলোর ভূমিকা এখন আর কেবল অন্ধকার দূর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সঠিক আলোকসজ্জা যেমন ছোট ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে বড় দেখা যাবে, তেমনি সাধারণ একটি কক্ষকে করে তোলে অনন্য ও আধুনিক। বর্তমানে নান্দনিকতা আর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মেলবন্ধন ঘটাতে স্মার্ট এলইডি বাল্ব ও ঝাড়বাতির প্রতি ঝুঁকছেন গ্রাহকেরা।
আলোর জাদুতে বদলে যায় ঘর
প্রাকৃতিক আলোর পাশাপাশি কৃত্রিম আলোর সঠিক ব্যবহার ঘরের আকৃতিতে ভিন্নতা আনে। ফুটিয়ে তোলে বাড়ির আলাদা সৌন্দর্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে কোন আলো ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করে ঘরের কাজ ও ব্যক্তির মেজাজের ওপর। যেমন বসার ঘর বা শোবার ঘরের জন্য ‘ওয়ার্ম লাইট’ বা উষ্ণ আলো আরামদায়ক আমেজ তৈরি করে। অন্যদিকে রান্নাঘর বা অফিসের মতো জায়গায় ‘কুল লাইট’ বা শীতল আলো মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক।
২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বাজার
দেশে আলোকসজ্জার বাতির বাজার এখন প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। আশার কথা হলো, এই বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন দেশি কোম্পানিগুলোর দখলে। শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সুপার স্টার, ওয়ালটন, ক্লিক, ট্রান্সটেক ও এনার্জিপ্যাক উল্লেখযোগ্য। তবে শহরাঞ্চলে ব্র্যান্ডের আধিপত্য থাকলেও গ্রামাঞ্চলে এখনো নিম্নমানের নকল ও অনুমোদনহীন নন-ব্র্যান্ডেড বাল্বের দাপট রয়েছে। বিপণন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের (এমডব্লিউবি) মতে, লাইটিং পণ্যের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৩ শতাংশ।
এলইডি ও স্মার্ট বাল্বের জয়জয়কার
বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী হওয়ায় এখন বাজারের ৯৫ শতাংশই এলইডি বাল্বের দখলে। রাজধানীর সেগুনবাগিচার ভাই ভাই ইলেকট্রিকের মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য ১৩০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডের বাল্ব পাওয়া যায়, যেগুলোতে এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস বিভাগের চিফ বিজনেস অফিসার সোহেল রানা জানান, তাঁরা ১১টি শ্রেণিতে ৬০০-এর বেশি মডেলের বাতি উৎপাদন করছেন। মাসে প্রায় পাঁচ লাখ বাল্ব উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে ষাটের দশকে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ল্যাম্পস এখন নরসিংদীতে বিশাল পরিসরে ট্রান্সটেক ব্র্যান্ডের এলইডি ও স্মার্ট লাইট উৎপাদন করছে। কোম্পানির সচিব মোহাম্মদ রুহান মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মানুষ এখন স্মার্ট সলিউশনের দিকে ঝুঁকছে।
সৌন্দর্যবর্ধনে ঝাড়বাতি ও মুড লাইটিং
সাধারণ বাতির বাইরে অন্দরে প্রাণ ফেরাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ডিফিউজড লাইট, প্যানেল লাইট ও মুড লাইটিং। তবে এই ঝাড়বাতির বাজার এখনো অনেকাংশেই আমদানিনির্ভর। বিজয়নগরের সায়মা লাইটিং প্লাসের প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা মো. আমীর হোসেন জানান, ৭ হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঝাড়বাতি বিক্রি হয়।
সঠিক আলোকসজ্জার টিপস
বসার ঘর ও ডাইনিং: ঝাড়বাতি ব্যবহারের সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। এটি আভিজাত্য বাড়ায়।
রান্নাঘর: ক্যাবিনেটের নিচে ভোল্টেজ সেটআপ লাইট ব্যবহার করলে কাজ করা সহজ হয় এবং দেখতেও সুন্দর লাগে।
গাছ ও আলো: ঘরের কোণে থাকা ইনডোর প্ল্যান্টের সঙ্গে এলইডি লাইটের সংমিশ্রণ ঘরকে এক অদ্ভুত মায়া ও আধুনিকতা দেয়। বাড়িকে এনে দেবে ক্ল্যাসিক লুক।