প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজিএমইএর নেতারা। আজ রাজধানীর সচিবালয়ে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজিএমইএর নেতারা। আজ রাজধানীর সচিবালয়ে

সংকটে থাকা কারখানাকে সহায়তা দেবে সরকার

বন্ধ কারখানা চালুর পাশাপাশি ধুঁকতে থাকা কারখানাগুলোর জন্য সরকার নীতিসহায়তা দেবে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তাঁদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আশ্বাস দিয়েছেন।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তাঁরা বলেছেন, ধুঁকতে থাকা কারখানার জন্য নীতিসহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংগঠন দুটির কাছে লিখিত আবেদন চেয়েছেন।

রাজধানীর সচিবালয়ে আজ সোমবার দুপুরে প্রথমে বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, পূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বিজিএমইএর প্রতিনিধিদলে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, মিজানুর রহমান, রেজওয়ান সেলিম, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী প্রমুখ।

জানতে চাইলে মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বন্ধ কারখানা চালুর পাশাপাশি সংকটে থাকা কারখানার জন্যও প্রণোদনা দেওয়ার অনুরোধ করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, এমন কাউকে সহায়তা দেওয়া উচিত হবে না, যারা কারখানা চালু করতে পারবে না। বিজিএমইএর সদস্যদের মধ্যে বন্ধ কারখানাগুলো চালু সম্ভব এবং সংকটে থাকা কারখানার তালিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।'

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ফটোসেশনে বিকেএমইএর নেতারা। গতকাল সচিবালয়ে

বিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, ‘ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে কোন কোন ক্ষেত্রে নীতিসহায়তা প্রয়োজন, তা–ও আমাদের কাছ থেকে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা লিখিত প্রস্তাব জমা দিলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

বিজিএমইএর পর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে বিকেএমইএর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সিনিয়র সহসভাপতি অমল পোদ্দার, সহসভাপতি মোরশেদ সারওয়ার সোহেল, মো. শামসুজ্জামান ও ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ।

জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলেছি, একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ধুঁকতে থাকা কারখানার জন্য নীতিসহায়তার বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব চেয়েছেন।’

কাস্টমসের জটিলতার কারণে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন বিকেএমইএর নেতারা। এ বিষয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কাস্টমসের জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা হয়রানির মুখে পড়ছেন। করব্যবস্থা নিয়েও ভুগতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও ব্যবসায়ীদের কাছে লিখিত প্রস্তাব চেয়েছেন।