রাজধানীতে চার দিনব্যাপী ‘গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ (জিটিবি)’ এবং ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিংয়ের প্রদর্শনী (গ্যাপেক্সপো)’ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ইয়ার্ন ফেব্রিকস অ্যাকসেসরিজ শো’ নামে আরেকটি প্রদর্শনীও চলছে। তিন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ১৫টি দেশের ৪৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ বুধবার প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া।
এএসকে ট্রেড শো অ্যান্ড এক্সিবিশনস এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাকশিল্পের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম, মোড়কপণ্য, সুতা ও কাপড় প্রদর্শন করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যের অবসান ঘটিয়ে সামনে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশে প্যাট্রনাইজড (পৃষ্টপোষকতা) ব্যবসা চলবে না। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে।’
নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে দেশের শতভাগ রপ্তানিমুখী যেকোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ব্যাক টু ব্যাক এলসি–সুবিধা ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্প যে সুবিধা পাচ্ছে, অন্য সব রপ্তানি খাতও সেই সুযোগ পাবে। কেউ বঞ্চিত থাকবে না।’
প্রতিবছর বন্ড লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমীর খসরু। তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিবছর কেন রিনিউ (নবায়ন) করতে হবে? রিনিউ মানেই আমরা জানি কী হয়। তিনি বলেন, আগামী দিনে ব্যবসা সহজ এবং ব্যবসার খরচ কমাতে বিভিন্ন খাতে নিয়মকানুন শিথিল ও বাণিজ্য উদারীকরণের দিকে যাবে তাঁর দল।
বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, নীতিগত সহায়তা ও রপ্তানি প্রণোদনার অভাবে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক প্যাকেজিং বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা নেই বললেই চলে। চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো যেখানে প্যাকেজিং রপ্তানিতে ৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দেয়, সেখানে বাংলাদেশে তেমন কিছু নেই। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার এটিও একটি কারণ।
আগামী শনিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক এই তিন প্রদর্শনী চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।