এম মাহবুবুর রহমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজ লিমিটেড (বিটিআই)
এম মাহবুবুর রহমান
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড 
আইডিয়াজ লিমিটেড (বিটিআই)

সাক্ষাৎকার: মাহবুবুর রহমান

ঢাকায় টেকসই আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব

প্রথম আলো: চার দশকের পথচলায় বিটিআই দেশের আবাসন খাতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে বর্তমানে কী ধরনের আবাসন প্রকল্প করছেন? অথবা আবাসন প্রকল্পে নতুন কী সংযোজন করছেন?

এম মাহবুবুর রহমান: নতুন প্রজন্মের কাছে আবাসন মানে শুধু একটি ঠিকানাই নয়, বরং একটি উন্নত জীবনযাপনের চাবিকাঠি। তাই আমরা আধুনিক নকশা, উন্নতমানের নির্মাণ, স্মার্ট হোম প্রযুক্তি, হোম অটোমেশন, ল্যান্ডস্কেপড রুফটপ, কমিউনিটি ফ্যাসিলিটি ও ওয়েলবিয়িং-কেন্দ্রিক ফিচারগুলোকে আমাদের প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য—সময়ের চাহিদা পূরণ করে এমন আবাসন তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রথম আলো: দীর্ঘদিন ধরেই আপনারা মানসম্মত আবাসিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে নির্মাণকাজে প্রযুক্তির ব্যবহার কি বাড়ছে? আপনারা কোন কোন কাজে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন? এতে কী ধরনের সুবিধা হচ্ছে?

এম মাহবুবুর রহমান: বর্তমান সময়ে নির্মাণের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার এখন যুগের চাহিদা। এ ছাড়া পরিকল্পনা, নকশা, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প এলাকার তদারকি, মান পরীক্ষা ( কোয়ালিটি টেস্টিং), আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিপণনের মতো সব পর্যায়েই আমরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ‘বাড়ির মালিকানার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তোলা’। আমাদের কাজের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজগুলো আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও দক্ষ হচ্ছে সেই সঙ্গে কমছে সময় ও সম্পদের অপচয়। বাড়ি কেনার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে এর কোনো বিকল্প নেই।

প্রথম আলো: অ্যাপার্টমেন্টে আপনারা কী স্মার্ট হোম প্রযুক্তির ব্যবহার করছেন? তাতে গ্রাহকদের জীবনযাপনে কী প্রভাব ফেলছে?

এম. মাহবুবুর রহমান: স্মার্টহোম প্রযুক্তি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের একটি কার্যকর অংশ বলেই বিবেচিত হয়। আমাদের সব অ্যাপার্টমেন্টে স্মার্ট ডোর লক, ভিডিও ডোরফোন, নিরাপত্তা ক্যামেরা, গ্যাস লিকেজ ডিটেক্টর, রিমোট-কন্ট্রোলড লাইট ও ফ্যান এবং স্মার্ট লাইটিংয়ের মতো প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। যেমন স্মার্ট ডোর লক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি চাবির ওপর নির্ভরতা কমায়, নিরাপত্তা ক্যামেরা নজর রাখতে সাহায্য করে, আর স্মার্ট লাইটিং দৈনন্দিন ব্যবহারে আনে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও স্বস্তি। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল কমাতেও এসব লাইট কাজে আসে। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরকে শুধু স্মার্ট নয়, মানুষের জন্য আরও নিরাপদ, সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলা।

প্রথম আলো: নির্মাণসামগ্রীর উচ্চমূল্যের কারণে খরচ বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য অ্যাপার্টমেন্টের দাম স্থিতিশীল রাখা কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে? বিক্রির ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে?

এম মাহবুবুর রহমান: নির্মাণসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্য আবাসন খাতের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। একদিকে নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা ও সামর্থ্যের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ফলে আমরা প্রতিনিয়তই স্থিতিশীল রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। এর প্রভাব অন্যান্য ব্যবসার মতো আবাসন খাতের ব্যবসায়ও পড়ছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, এই সময়ে দক্ষতা, ব্যয়সাশ্রয়ী পরিকল্পনা ও দীর্ঘ সময় গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম আলো: আগামী বছরগুলোতে আপনারা কী ধরনের প্রকল্প করার পরিকল্পনা করছেন? সামনের দিনে আপনারা কি শুধুই উচ্চবিত্তের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করবেন, নাকি মধ্যবিত্তের জন্যও উদ্যোগ থাকবে?

এম মাহবুবুর রহমান: আমরা কখনোই শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করি না। আমাদের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন ও ক্রয়ক্ষমতাকে বিবেচনায় রেখে প্রকল্প পরিকল্পনা করা। সব সময়ের মতো ভবিষ্যতেও আমরা আধুনিক, স্থায়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের ক্রেতার জন্যও বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের কাছে আবাসন মানে শুধু সম্পত্তি নয়, এটি মানুষের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।