নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দিল আকিজবশির গ্রুপ

শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈশ্বিক উদ্যোগ আরই১০০-তে যোগ দিয়েছে আকিজবশির গ্রুপ। বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রুপটি এ উদ্যোগের সদস্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ক্লাইমেট গ্রুপ পরিচালিত আরই১০০ উদ্যোগে বিশ্বের ৪০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে তাদের কার্যক্রমে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আরই১০০-এর সদস্যদের প্রতিবছর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের অগ্রগতি জানাতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের তথ্য উদ্যোগটির নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই করা হয়।

আকিজবশির গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। এতে বলা হয়, আরই১০০-তে যোগ দেওয়ার ফলে তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলমান নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ আরও জোরদার হবে। গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় বর্তমানে প্রায় ৯০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে আকিজ সিরামিকসে ২৪ দশমিক ৩৯ মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ২৮ হাজার ৫ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটি ১০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও বিদ্যুৎ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জে আকিজবশির গ্লাসে ১৮ দশমিক ২ মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। এর সঙ্গে ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দিনের আলো না থাকলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। এতে লোডশেডিংয়ের প্রভাবও কমানো সম্ভব হচ্ছে। এই কারখানায় সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ‘ওয়েস্ট হিট রিকভারি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কাচ উৎপাদনের সময় তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপ কাজে লাগিয়ে বাষ্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কারখানাটির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২১ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।

আকিজবশির গ্রুপের জনতা জুট মিলসেও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। এটি মিলের পুরো বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করছে। ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থার ফলে দিনের আলো না থাকলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়।

আকিজ পার্টিকেল বোর্ড মিলসে স্থাপন করা হয়েছে ১ দশমিক ১ মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ–ব্যবস্থা। এটি বছরে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এতে বছরে ৭ হাজার ৪৫২ টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে আকিজবশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ বশির উদ্দিন বলেন, আরই১০০-তে যোগ দেওয়া শুধু নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যুতের ব্যবহার ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শেখ বশির উদ্দিন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দিতে পেরে আমরা গর্বিত। শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্যে এটি আমাদের একটি অগ্রণী পদক্ষেপ।’