
দেশে যেসব মোটরসাইকেল রয়েছে, সেগুলো হয় জ্বালানি তেলে অথবা ব্যাটারির সাহায্যে চলে। তবে দেশের বাজারে এই প্রথম যুক্ত হয়েছে হাইব্রিড ধরনের মোটরসাইকেল। অর্থাৎ এই মোটরসাইকেলে রয়েছে হাইব্রিড ইঞ্জিন, যা তেল ও ব্যাটারি উভয়ের সমন্বয়ে চলবে।
প্রথমবারের মতো হাইব্রিড প্রযুক্তির মোটরসাইকেল দেশের বাজারে এনেছে এসিআই মোটরস। জাপানি ব্র্যান্ড ইয়ামাহার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এফজেড-এস হাইব্রিড মডেলটির বাজারজাতকরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এসিআই মোটরস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল লো মেরিডিয়েনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন হাইব্রিড মোটরসাইকেল বাজারে আনার ঘোষণা দেয় এসিআই। দেশে ইয়ামাহা বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশক এসিআই মোটরস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। এ ছাড়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ইয়ামাহা মোটর ইন্ডিয়া সেলসের পরিচালক হিরোশি সেতোগাওয়া এবং ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুটের শিল্পী বাপ্পা মজুমদার।
এসিআই মোটরস আরও জানিয়েছে, অটোমোবাইল জগতে হাইব্রিড প্রযুক্তির বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তবে এই প্রযুক্তির গাড়ি দেশে যতটা পরিচিত, মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ততটাই নতুন। অনেক দিন ধরেই উচ্চপ্রযুক্তির মোটরসাইকেল নিয়ে বাইক অনুরাগীদের মধ্যে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। বাইকপ্রেমীদের কাছে হাইব্রিড বাইকের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের মোটরসাইকেল–শিল্পে নতুন প্রযুক্তির পরিচয় করানোর ক্ষেত্রে ইয়ামাহা ও এসিআই মোটরস সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন মডেলের এই মোটরসাইকেলে রয়েছে হাইব্রিড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন মূলত তেল ও ব্যাটারির সমন্বয়ে চলে, যার কারণে অন্যান্য মোটরসাইকেলের তুলনায় এই মডেলের মোটরসাইকেলে বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়। এর ফলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
প্রাথমিকভাবে সায়ান মেটালিক গ্রে ও রেসিং ব্লু রঙে মোটরসাইকেলটি ইয়ামাহার সব অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যাবে। গ্রাহকেরা আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটি কিনতে পারবেন। মোটরসাইকেলটির দাম ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যাঁরা আগাম বুকিং দেবেন, তাঁরা ছয় হাজার টাকা মূল্যছাড় পাবেন। ইয়ামাহা এফজেড-এস হাইব্রিডে রয়েছে ফুললি লোডেড ৪ দশমিক ২ ইঞ্চি মাপের টিএফটি ডিজিটাল ডিসপ্লে, গিয়ার ইন্ডিকেটর, টার্ন বাই টার্ন নেভিগেশন, এলইডি হেডলাইট, টেল লাইট, এলইডি ইন্ডিকেটর ও স্টপ অ্যান্ড স্টার্ট সিস্টেম (যা ট্রাফিক সিগন্যালে বাইক আলাদাভাবে অফ ও স্টার্ট করার ঝামেলা কমায়)।