টানা চারবার কমার পর আজ দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারে খাঁটি সোনা ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
আজ শনিবার দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সোনা ও রুপার দাম কমানোর এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর আগে বাজেটের ঘোষণার দিন গত বৃহস্পতিবার সোনার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়।
৬ জুন সকালে দেশে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়। ওই দিন প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়। তার আগে ২ জুন সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ ঈদের পর সোনার দাম ভরিতে ১৯ হাজার ৭৭১ টাক কমেছিল। এরপর আজ দাম বাড়ানো হলো।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা; ২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।
এদিকে আজ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের রুপার দাম বেড়েছে ভরিপ্রতি ২৯১ টাকা। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা।
বিশ্ববাজারে ২০২৫ সালে সোনার দাম ৭০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম সর্বকালের রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে। তবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সোনার দাম বাড়েনি; বরং কমেছে। গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫৭৯ ডলার কমেছে। তবে গতকাল সোনার দাম বেড়েছে ১১৩ ডলার। সে কারণে আজ দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২১০ ডলার। যদিও চলতি বছরের শুরুতে সোনার দাম ৫ হাজার ডলারের ওপরে ছিল। জানুয়ারি মাসে সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালীন রেকর্ড স্পর্শ করে।
দেশে সোনা ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় বর্তমানে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হয়। ফলে প্রতি ভরি সোনায় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার টাকার বেশি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সোনার গয়নার দাম কমাতে প্রতি ভরি সোনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।