শেয়ারবাজার
শেয়ারবাজার

দরপতনের শেয়ারবাজারে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে দুর্বল ও বন্ধ কোম্পানি

দরপতনের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির দাপুটে অবস্থানে ছিল দুর্বল মানের জেড শ্রেণির কোম্পানি। গত সপ্তাহ শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির সব কটিই ছিল জেড শ্রেণিভুক্ত। দুর্বল মানের এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সর্বনিম্ন ২৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহ শেষে ঢাকার বাজারে যেসব কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় ছিল সেগুলো হলো প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফ্যামিলিটেক্স, তুংহাই নিটিং, নূরানী ডায়িং, জেনারেশন নেক্সট ও অ্যাপোলো ইস্পাত। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের কারণে ধুঁকতে থাকা এসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। অথচ গত সপ্তাহে ব্যাপক দরপতনের মধ্যে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হয় বন্ধ, না হয় কোনোরকমে টিকে আছে। এসব কোম্পানিও কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দরপতনের বাজারে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারের বিক্রির চাপ ছিল বেশি। তার বিপরীতে স্বল্প মূলধনি কম দামি দুর্বল শেয়ারের প্রতি একশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি। কারণ, দাম কম হওয়ায় এসব শেয়ারে খুব বেশি বিনিয়োগ করতে হয় না। অল্প বিনিয়োগে বড় লোকসানের ঝুঁকিও কম।

ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই দরপতন হয়েছে। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৩৫৯ পয়েন্ট বা প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। তাতে সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচকটি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৪১ পয়েন্টে। তাতে ডিএসইএক্স সূচকটি এক মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।

সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে লেনদেনও কমেছে। সপ্তাহ শেষে ঢাকার বাজারে দৈনিক গড় লেনদেন কমে নেমে এসেছে ৬৯৬ কোটি টাকায়। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৭২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে দৈনিক গড় লেনদেন ২৯ কোটি টাকা বা প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহে খাতভিত্তিক লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দৈনিক সম্মিলিত গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৬৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬ কোটি টাকা বা সাড়ে ৩ শতাংশ বেশি। ঢাকার বাজারে দৈনিক মোট লেনদেনের প্রায় সোয়া ২৪ শতাংশই ছিল ব্যাংক খাতের দখলে।

তবে আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেন বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ার। এ খাতের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই খাতের কোম্পানিগুলোর দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় দেড়শ শতাংশ।