শেয়ারবাজার
শেয়ারবাজার

শেয়ারবাজারে লেনদেনে গতি, আগ্রহ বেশি তিন খাতে

* ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৯ শতাংশই প্রকৌশল, ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের।

* লেনদেনের শীর্ষে ছিল তিন ব্যাংক। এগুলো হলো যমুনা, ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংক।

* সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ব্র্যাক ব্যাংকের।

প্রকৌশল, ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের কিছু কোম্পানির ওপর ভর করে শেয়ারবাজারে লেনদেন আবারও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মঙ্গলবার দিন শেষে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায়। গত ১২ মের পর এটিই ঢাকার বাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন। সর্বশেষ ১২ মে ঢাকার বাজারে ১ হাজার ১০১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

ঢাকার বাজারে লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল প্রকৌশল, ব্যাংক ও বস্ত্র খাতের। আজ মঙ্গলবার এই তিন খাতের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪১৭ কোটি টাকা, যা এদিন ঢাকার বাজারের মোট লেনদেনের প্রায় ৩৯ শতাংশ। দেশের শেয়ারবাজারের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউস লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এ খাতের লেনদেন হওয়া ৪২ কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৪ শতাংশ। খাতভিত্তিক লেনদেনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল ব্যাংক খাতের। এদিন লেনদেন হওয়া ৩১ ব্যাংকের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া বস্ত্র খাতের লেনদেন হওয়া ৫১ কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ শতাংশ।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের ছুটির পর শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হওয়ায় ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। যার প্রভাবে শেয়ারের দাম ও লেনদেন—উভয়ই বেড়েছে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে নতুন বাজেট ঘোষণা হবে। নতুন বাজেটকে ঘিরেও শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে। গত তিন মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ৩ মার্চ ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৫৩৪ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। ঈদের ছুটির পর দুই কার্যদিবসেই বাজারের সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। বাজারের এই প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানির মধ্যে ৫টিই ছিল ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক। অন্য পাঁচ কোম্পানি হলো আইডিএলসি, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও নাভানা ফার্মা। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে আজ ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় ১৬ পয়েন্ট বেড়েছে।

ঢাকার বাজারে আজ লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে প্রথম তিনটিই ছিল ব্যাংক। এগুলো হলো যমুনা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। এর মধ্যে যমুনা ব্যাংকের ৩৬ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও সিটি ব্যাংকের সাড়ে ১৯ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাতবদল হয়। এই তিন ব্যাংকের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৪ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৮ শতাংশ।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজারে লেনদেনের নেতৃত্ব দিচ্ছে এখন ভালো মৌল ভিত্তির ব্যাংকগুলো। তবে ব্যাংকের বাইরে বিনিয়োগের টাকা ঢুকছে বিমা ও বস্ত্র খাতের শেয়ারে। এ কারণে এই দুই খাতের লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে, অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এক খাত থেকে মুনাফা তুলে নিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন। এটির বাজারের জন্য ইতিবাচক প্রবণতা বলে মন্তব্য করেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।