জুতার বাজারের দেশি কোম্পানি এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবসা ১৪ শতাংশ বেড়েছে আর মুনাফা বেড়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৯৪৩ কোটি টাকার জুতা বা পণ্য বিক্রি করেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটি জুতা বিক্রি করেছিল ৮২৯ কোটি টাকার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বা বিক্রি বেড়েছে ১১৪ কোটি টাকা বা প্রায় ১৪ শতাংশ।
এপেক্স ফুটওয়্যারের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কোম্পানিটি তাদের গত ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদনের তথা আয়-ব্যয় ও মুনাফার তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। তার আগে গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। এরপর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী তা বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে জুতার বাজারের শীর্ষস্থানীয় দেশি এই কোম্পানিটি সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দেওয়ার পর মুনাফা করেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ২ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশের বেশি। বিক্রি যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে মুনাফা। এর কারণ কোম্পানিটির পণ্য উৎপাদনে কাঁচামালসহ উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পেরেছে। এ ছাড়া কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করে প্রতিবছরের ২৬ সেপ্টেম্বর। গত বছর ক্রেতাদের আগ্রহে বিশেষ ছাড়ে বিক্রির সময় বাড়ানো হয়। তাতে ওই বিশেষ উদ্যোগকে ঘিরে ভালো বিক্রি হয় কোম্পানিটির, যা সার্বিক বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ৮২৯ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ছিল ৬০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যবসার ৭৩ শতাংশই পণ্য উৎপাদনে পেছনে ব্যয় হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ৯৪৩ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ছিল ৭০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যবসার ৭৪ শতাংশ খরচ হয় পণ্য উৎপাদনে। তার মানে আগের অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যবসা বেড়েছে ১১৪ কোটি টাকার, সেই তুলনায় উৎপাদন খরচ খুব বেশি বাড়েনি। এ কারণে কোম্পানিটির ব্যবসার প্রবৃদ্ধির চেয়ে মুনাফায় বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
জানতে চাইলে এপেক্স ফুটওয়্যারের কোম্পানি সচিব ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের শেষ ৬ মাসে ব্যবসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক দিন দোকানপাটও বন্ধ ছিল। তাতে বিক্রিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই তুলনায় গত বছরের শেষ ছয় মাসে ব্যবসা কিছুটা বেড়েছে। তবে আগের বছর বিক্রি বেশি কমে যাওয়ায় এবারের বিক্রিকে ভালো মনে হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসা এখনো তার স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির ধারায় আসেনি।
বিক্রির তুলনায় মুনাফায় বেশি প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ওমর ফারুক বলেন, ‘ব্যবসা যতটা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন খরচ খুব বেশি বাড়েনি। নানা উদ্যোগের মাধ্যমে কোম্পানির পক্ষ থেকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা ছিল আমাদের। যার সুফল মুনাফায় পাওয়া গেছে।’
অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি কোম্পানিটি সর্বশেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রতিবেদনও আলাদাভাবে প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, কোম্পানিটি ছয় মাসে যে মুনাফা করেছে, তার অর্ধেকের বেশি মুনাফা হয়েছে শেষ তিন মাসে। গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির মুনাফার পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি টাকার বেশি। এই মুনাফা ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকের চেয়ে দুই কোটি টাকা বেশি। গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এপেক্স ফুটওয়্যার ব্যবসা করেছে ৪৫৯ কোটি টাকার। ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকে কোম্পানিটি ব্যবসা করেছিল ৪০৬ কোটি টাকার।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ার খবরে আজ শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪ টাকা ১০ পয়সা বা সোয়া ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তাতে দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২ টাকায়। দিন শেষে কোম্পানিটির ৪ কোটি টাকার সমমূল্যের প্রায় সোয়া ২ লাখ শেয়ারের হাতবদল হয়।