শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরও সাত ব্যাংক ২০২৫ সাল শেষে তাদের নিট মুনাফা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা হয় গত বুধবার। এতেই মুনাফা ও লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। তবে কমেছে শুধু স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের। আর মুনাফা বেড়েছে ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকের। তবে এসব ব্যাংকের কোনোটিই হাজার কোটি টাকার মুনাফার ঘরে পৌঁছাতে পারেনি।
ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত সাত ব্যাংকের মধ্যে মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাউথইস্ট, যমুনা ও ব্যাংক এশিয়ার। এর মধ্যে ২০২৪ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকের মুনাফা ছিল ৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরে বেড়ে হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ বোনাস।
এদিকে যমুনা ব্যাংকের মুনাফা ২৭৯ কোটি টাকা থেকে গত বছরে বেড়ে হয়েছে ৫৫৬ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালের জন্য ২৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ব্যাংক এশিয়ার মুনাফা গত বছর বেড়ে হয়েছে ৪০৮ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা ছিল ২৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সাড়ে ৮ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ৮ শতাংশ বোনাস।
এদিকে গত বছর ইসলামী ব্যাংক মুনাফা করেছে ১৩৭ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা ছিল ১০৯ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটি এই মুনাফা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে বিশেষ ছাড় নিয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে এস আলম গ্রুপের লুটপাটের কারণে ব্যাংকটির ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এর ফলে গত বছরের মতো এবারও শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। এ কারণে ব্যাংকটিকে শেয়ারবাজারে দুর্বল মানের জেড শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
বিদায়ী বছরে উত্তরা ব্যাংক মুনাফা করেছে ৫৯০ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা ছিল ৪৭৮ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ২৫ শতাংশ বোনাস। বিদায়ী বছরে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৩৪০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, ২০২৪ সালে যা ছিল ৩১৭ কোটি টাকা। ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের জন্য ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা গত বছর কমে হয়েছে ৮০ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা ছিল ৮৩ কোটি টাকা। গত বছরের জন্য ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে এই ব্যাংকটিকেও শেয়ারবাজারে জেড শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক মুনাফা করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। বিভিন্ন কারণে খেলাপি ঋণ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তবে এবার বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ নবায়ন হয়েছে। ফলে বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। সরকারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করেও গত বছর ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করেছে।