দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের রোববার হারানো ২৩২ পয়েন্টের মধ্যে ১৩২ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার হয়েছে। আজ সোমবার শেয়ারবাজারে বেশির ভাগ শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে হারানো অংশের বড় একটি অংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে। সূচক ঘুরে দাঁড়ালেও এদিন লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কমে গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বড় ধরনের দরপতনের পর বাজারের এই ধরনের আচরণ মোটেই অস্বাভাবিক নয়। গতকাল রোববার আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ কোনো বাছবিচার ছাড়া শেয়ার বিক্রি করে দেন। আজ আতঙ্কের সেই বিক্রির চাপ কিছুটা কম ছিল। তাতে বাজার আগের দিনের অবস্থান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। সকালে লেনদেন শুরুর পর বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা আর শেয়ার বিক্রিতে খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। ফলে অল্প লেনদেনেই শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। তাতে সূচকও তার হারানো পয়েন্ট ফিরে পেয়েছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া ৯৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারদর কমেছিল। সেখানে আজ লেনদেন হওয়া ৯০ শতাংশেরই দাম বেড়েছে। ঢাকার বাজারে এদিন ৩৮৮ প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়। তার মধ্যে ৩৫১টি বা প্রায় ৯০ শতাংশের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৭টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির শেয়ারদর। যেসব শেয়ারের দরপতনে রোববার সূচক সবচেয়ে বেশি কমেছিল, আজ সেসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বর্তমানে একধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দাম কমে যাওয়ায় আরেকটি অংশ শেয়ার কিনছেন। ফলে রোববারের বড় পতনের পর আজ বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাজারে বড় পতনের পর এই ধরনের উত্থান অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা। কারণ, যুদ্ধ যেমন চিরস্থায়ী হবে না, তেমনি দরপতনও টানা চলবে না।
বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ঢাকার বাজারের সূচকটি ৬০০ পয়েন্টের মতো কমে গেছে। তাতে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারের দামেরও ভালো মূল্য সংশোধন হয়েছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এসব শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন। এ কারণে বড় দরপতনের পর অনেকে শেয়ার কিনেছেন। তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ব্রোকারেজ হাউস লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে সূচকের উত্থানে যে ১০টি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, সেগুলো হলো যথাক্রমে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূ্বালী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, ইস্টার্ন ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল–আরাফাহ্ ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি বা বিএটিবিসি। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়েছে প্রায় ৭৮ পয়েন্ট।
সূচকের বড় উত্থান হলেও এদিন লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমেছে। ডিএসইতে আজ সোমবার দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪১৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১১৬ কোটি টাকা কম। ঢাকার বাজারে এদিন লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির তালিকায় ছিল যথাক্রমে ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, রবি আজিয়াটা ও স্কয়ার ফার্মা। এই পাঁচ কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৩ কোটি টাকার বেশি, যা ঢাকার বাজারের আজকের মোট লেনদেনের প্রায় ২০ শতাংশ।