নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পাবেন ১ কোটি টাকা, সিটি আলো সেবায় আরও যা আছে

নারীদের জন্য বিশেষ সেবা সিটি ব্যাংকের ‘সিটি আলো’। এই সেবার আওতায় নারী উদ্যোক্তারা পুনঃ অর্থায়ন সুবিধায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। জামানতবিহীন দেড় কোটি টাকা ও জামানতসহ সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন একজন নারী উদ্যোক্তা।

ঋণ পাওয়ার জন্য নারী উদ্যোক্তার ব্যবসার বয়স এক বছর হতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসার বৈধ নিবন্ধন (ট্রেড লাইসেন্স) থাকতে হবে। আর জামানতসহ ঋণের জন্য সম্পত্তির নিবন্ধিত বন্ধক (মর্টগেজ) থাকা বাধ্যতামূলক। পুনঃ অর্থায়ন সুবিধায় ঋণের জন্য সুদহার ৫ শতাংশ। এ ছাড়া ঋণ পরিশোধ সঠিকভাবে হলে ১ শতাংশ ক্যাশব্যাকের মতো প্রণোদনা দেওয়া হয়।

নারী উদ্যোক্তাদের ‘আলো এন্ট্রাপ্রেনিউর ফাইন্যান্স’

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ সহজের জন্য সিটি আলোর আওতায় রয়েছে আলো এন্ট্রাপ্রেনিউর ফাইন্যান্স। মূলত নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই সেবার আওতায় কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা ১ থেকে ৫ লাখ টাকার ঋণ নিতে পারবেন। প্রতিষ্ঠিত ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হলে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। আর জামানতসহ সাড়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

এই ক্ষেত্রে কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা ঋণ পরিশোধের জন্য তিন বছর ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় পাবে। আয় থাকতে হবে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া হিসাব খোলার জন্য আবেদনপত্রের ফরম যথাযথভাবে পূরণের পাশাপাশি পরিচয়পত্র হিসেবে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ প্রয়োজন হবে। আর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিটিসিএল, বিদ্যুৎ বা ওয়াসা বিল (স্বত্বাধিকারী বা প্রতিষ্ঠানের নামে) দিতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক হিসাব খোলার জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে। আয়ের উৎস ও অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র সব সময় বাধ্যতামূলক নয়। তবে গ্রাহকের প্রোফাইল ও ব্যবসায়িক লেনদেনের ধরন বিবেচনায় শাখা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন নথি চাইতে পারে।

সিটি ব্যাংকের সিটিজেম প্রায়োরিটি অ্যান্ড সিটি আলোর প্রধান ফারিয়া হক বলেন, সিটি ব্যাংকের নারী ব্যাংকিং উদ্যোগ সিটি আলোর মাধ্যমে সাত লাখের বেশি নারী গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। নারীদের জন্য এটি একটি বিশেষায়িত ব্যাংকিং উদ্যোগ। এই সেবার মাধ্যমে নারীদের জন্য নিরাপদ, সহজ ও উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা হয়। এ ছাড়া এই সেবার আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সিটি আলো নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কাজ করে চলেছে।

যে ধরনের ঋণ পাবেন নারীরা

সিটি আলোতে নারীরা চাইলে হোম লোন, পারসোনাল লোন (ব্যক্তিগত ঋণ) ও অটো লোন সেবা নিতে পারবেন। হোম লোনে একজন নারী ৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। সর্বশেষ গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলার অনুসারে, এখন ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

সম্পত্তির বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৫ বছর। এ জন্য গ্রাহকের তিন বছরের চাকরি ও ব্যবসায় অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। এর জন্য প্রতি মাসে একজন বেসরকারি চাকরিজীবীর আয় হতে হবে ৪৫ হাজার ও সরকারি চাকরিজীবীদের ৩০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীদের জন্য এর পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা।

পারসোনাল লোন শ্রেণিতে নারী গ্রাহক ২ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। সে জন্য এক বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে দুই বছরের ব্যবসায় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর।

এ ছাড়া অটো লোনের মাধ্যমে ৪ লাখ থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। রিকন্ডিশন্ড বা নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে ব্যাংক। এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৬ বছর। এর জন্য মাসিক আয় হতে হবে ৬০ হাজার টাকা।

আরও যা রয়েছে

রাজধানীর গুলশানে সিটি আলোর আলাদা শাখা রয়েছে। এই সেবার আওতায় মোট ছয় ধরনের ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এগুলো হলো বিজনেস অ্যাকাউন্ট, জেনারেল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, হাই ভ্যালু সেভিংস অ্যাকাউন্ট, সেভিংস ডিলাইট অ্যাকাউন্ট, স্টুডেন্ট সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও ফ্রিল্যান্সার সলিউশন। আর শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী নারীরা শরিয়াহভিত্তিক জেনারেল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, হাই ভ্যালু সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও সেভিংস ডিলাইট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

সিটি আলো সেবায় ব্যাংক হিসাব খোলার মাধ্যমে নারী গ্রাহকেরা দ্বৈত মুদ্রার ভিসা কার্ড ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের ক্রেডিট কার্ড সেবা নিতে পারবেন। এ ছাড়া দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ উদ্যোক্তা কোর্সে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপে ভর্তি হতে পারবেন।