অ্যাপার্টমেন্ট
অ্যাপার্টমেন্ট

ফ্ল্যাট–প্লট কিনতে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেবেন কীভাবে

অধিকাংশ মানুষের জীবনে নিজের একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট বড় একটি স্বপ্ন। ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই স্বপ্ন পূরণ অনেকের কাছে স্বপ্ন। তবে বাড়ি তৈরির জন্য অনেকেই সারা জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেন। পাশাপাশি ঋণেরও প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়তা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন অনেক ব্যাংক চার কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারছে।

কে কত টাকা ঋণ পাবেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে আবাসন খাতে ঋণ ও মূলধনের অনুপাত ৭০: ৩০। অর্থাৎ ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাটে ব্যাংক ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে পারবে। বাকি ৩০ লাখ টাকা গ্রাহককে দিতে হবে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে পুরো টাকাই ঋণ দিতে পারে।

আবাসন ঋণের যোগ্যতা

আবাসন ঋণ পেতে হলে ঋণগ্রহীতার বয়স কমপক্ষে ২২ বছর এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বয়স ৬৫ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। চাকরিজীবীদের মাসিক আয় কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালারাও আবাসন ঋণ নিতে পারবেন।

কী কী কাগজ লাগবে

ঋণ পেতে বেশ কিছু কাগজপত্র লাগে। এবার দেখা যাক কী ধরনের কাগজপত্র লাগে—

১. ফ্ল্যাট বা জমি কেনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি

২. অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্রের সত্যায়িত কপি

৩. ফ্ল্যাট কেনার রেজিস্ট্রিকৃত বায়না চুক্তিপত্রের মূল কপি ও বরাদ্দপত্র

৪. বাড়ি নির্মাণের জন্য অনুমোদিত নকশা, মূল দলিল, নামজারি খতিয়ান, খাজনা রসিদের সত্যায়িত কপি

৫. সিএস, এসএ, আরএস, বিএস খতিয়ানের সত্যায়িত কপি

৬. ১২ বছরের তল্লাশিসহ নির্দায় সনদ (এনইসি)

৭. সরকার বরাদ্দকৃত জমির ক্ষেত্রে মূল বরাদ্দপত্র ও দখল হস্তান্তরপত্র

মর্টগেজ ঋণ কী

মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণে স্থায়ী সম্পদ জামানত রাখতে হয়। সাধারণত জমির দলিল জামানত রাখা হয়। এই ঋণের মেয়াদ ৫ থেকে ২০ বছর বা এর বেশি হতে পারে। মর্টগেজ ঋণ নিতে প্রয়োজন কর দেওয়ার সনদ, গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা বিল, ব্যাংক বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জামিনদারের কাগজপত্র, বেতনের সনদ ইত্যাদি।

কোন ব্যাংক কত টাকা ঋণ দেবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম অনুসারে, আবাসন ঋণে যাদের খেলাপির হার ৫ শতাংশের নিচে, সেসব ব্যাংক ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। যাদের খেলাপি ঋণ ৫–১০ শতাংশের মধ্যে, সেসব ব্যাংক ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত এই ঋণ দিতে পারবে।

আর ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ থাকলে ওই সব ব্যাংক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাট–প্লট কিনতে ঋণ দিতে পারবে।

এখন ব্যাংকগুলো নিজেরাই জানাচ্ছে, কে কত টাকা আবাসন ঋণ দিতে পারবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক এ বিষয়ে প্রচারণা শুরু করেছে।

অ্যাপার্টমেন্ট

আবাসন খাতের ঋণ দেওয়া শীর্ষ ব্যাংকগুলোর একটি সিটি ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে আবাসন খাত চাঙা হবে। গ্রাহকেরা এখন তুলনামূলক কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।’