আপনার আয়কর রিটার্নে ভুল হতেই পারে। অনেকে হিসাব ঠিকমতো করতে পারেন না। আবার অনেকে সম্পদের বিবরণীতে ভুল করেন। অবশ্য কেউ কেউ ইচ্ছা করেই সঠিক তথ্য দেন না।
যদি কোনো কারণে রিটার্ন ভুল হয়, তাহলে ঘাবড়াবেন না। এই ভুল ঠিক করতে পারবেন। আয়কর আইনে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে।
মনে রাখবেন, কোনো করদাতার আয়কর নথি যদি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিরীক্ষায় পড়ে যায়। তাহলে আর ভুল সংশোধন করা যাবে না। এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নথি যাচাই–বাছাইয়ের জন্য নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। তাঁরা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন না।
এবার দেখা যাক, কীভাবে রিটার্নের ভুল সংশোধন করবেন।
৩ ভুল সংশোধন হবে
আয়কর আইন অনুসারে, কোনো করদাতার রিটার্নে দেওয়া তথ্যের মধ্যে তিন ধরনের ভুল সংশোধন করা যাবে। যখন ওই করদাতা মন করবেন যে তাঁর দেওয়া কর সঠিকভাবে হিসাব করেননি। সেই অনুসারে সঠিক পরিমাণ কর দেওয়া হয়নি। এসব ক্ষেত্রে তিনি সংশোধন করতে পারবেন।
যেসব ভুল সংশোধন করা যাবে, তা হলো—১. প্রদর্শিত আয়, ২. দাবি করা কর অব্যাহতি বা ক্রেডিট, ৩. অন্য যেকোনো যৌক্তিক কারণে ভুল।
১৮০ দিন পার হলে সম্ভব নয়
ভুল সংশোধনেরও কিছু শর্ত আছে। সেগুলো হলো—১. রিটার্ন দাখিল করার তারিখ থেকে ১৮০ দিন শেষ হওয়ার পর, ২. একবার সংশোধন করে ফেললে ওই বছর দ্বিতীয়বার সংশোধন করা যাবে না, ৩. মূল রিটার্নটি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর।
অনলাইনেই রিটার্ন সংশোধন
করদাতাদের জন্য অনলাইনে সংশোধিত রিটার্ন জমার সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে সংশোধন অপশন ব্যবহার করতে হবে। সংশোধনী রিটার্নে যদি করের পরিমাণ বাড়ে, তাহলে নিয়ম অনুসারে বাড়তি করসহ জরিমানা দিতে হবে। যাঁরা সংশোধন অপশন ব্যবহারের জন্য অনলাইনে প্রবেশ করবেন, তাঁদের অবশ্যই সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এ বছর প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন। তাঁরা সবাই বার্ষিক আয়-ব্যয়ের তথ্য জানিয়ে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন। কিন্তু দেশে ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন।