
প্রত্যেক মা–বাবা সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষার ব্যয় যে প্রতিবছরই বাড়ছে! নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্ত পরিবারও এখন হিমশিম খাচ্ছে সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় চালাতে। অথচ একটু পরিকল্পনা করে এগোলে বিষয়টি আর কঠিন থাকে না।
দেখতে দেখতে ১০ থেকে ১৫ বছর কেটে যায়। শিক্ষাবিমা করা থাকলে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ তখন দেশে তো বটেই, বিদেশের জন্যও সহজ হয়ে যায়। অর্থাৎ সন্তানের লেখাপড়ায় বড় সহায়তা হিসেবে আসতে পারে শিক্ষাবিমা। তখন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে অভিভাবকদের গায়েই লাগে না।
প্রশ্ন উঠতে পারে, শিক্ষাবিমা পলিসি নেওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি? বিমা কোম্পানি ও উপকৃত অভিভাবকদের মতে, অবশ্যই সন্তান জন্মগ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে পলিসিটি নেওয়া উত্তম। বড়জোর জন্মের এক মাস পর্যন্ত দেরি করা যেতে পারে। সন্তানদের সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার জন্য আর্থিক নিরাপত্তাই বড় নিরাপত্তা। অর্থের অভাবে কত শিক্ষার্থীর যে শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে গেছে আমাদের দেশে!
শিক্ষাবিমা পণ্যটি কি সব বিমা কোম্পানিরই আছে? এ প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, ‘হ্যাঁ।’ দেশের সব কোম্পানিরই এ আর্থিক পণ্য আছে। অভিভাবকেরা এ জন্য নিজেদের সুবিধামতো কোম্পানি বেছে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কোম্পানির ভিত্তি বিবেচনা করতে হবে আগে। প্রয়োজনের সময় কোম্পানিগুলো পলিসির টাকা পরিশোধ করে কি না, সেই খোঁজও নিতে হবে।
বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ সংস্থার কাছে খোঁজ নেওয়া যায় পলিসির টাকা দিতে চায় না কোন কোন প্রতিষ্ঠান, কোন কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেমন আছে ইত্যাদি।
বর্তমানে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার মধ্যে শিক্ষাবিমা করা যায়। প্রতি মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বিমার টাকা জমা দিতে হয়। শিক্ষাবিমার সময়সীমা সাধারণত ১০ থেকে ২৫ বছর। পলিসি করা যায় সন্তানের ন্যূনতম এক মাস বয়স থেকে। তবে ১৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। আর অভিভাবকের সর্বোচ্চ বয়স ৫৫ ও সর্বনিম্ন বয়স ২১ বছর।
সন্তানের জন্য শিক্ষাবিমা পলিসির গ্রাহক হন অভিভাবকেরা। অভিভাবকেরা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে আর্থিক সুবিধা দেয় বিমা কোম্পানি। আর যে সন্তানের জন্য বিমা পলিসি করা হয়, সে যদি কোনো কারণে মারা যায়, তাহলে বিমা পলিসির মূল টাকা (ফেস ভ্যালু) দেওয়া হয় অভিভাবককে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, একজন অভিভাবক যদি সন্তানের জন্য ১৫ বছর মেয়াদি ৫ লাখ টাকার বিমা পলিসি করেন এবং কয়েকটি প্রিমিয়াম দেওয়ার পরই যদি ওই অভিভাবক মারা যান, তাহলে ১৫ বছর পর্যন্ত ৫ লাখ টাকায় ১ শতাংশ হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা করে তার সন্তান পেয়ে যাবে কোম্পানির কাছ থেকে এবং বিমা পলিসিটিও সক্রিয় থাকবে। মোটকথা, সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের নিরাপত্তার অপর নাম শিক্ষাবিমা।
জসিম উদ্দিন রাসেলের ‘স্মাট মানি হ্যাকস: সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সেরা প্ল্যান’ বই অবলম্বনে