জ্বালানি তেল
জ্বালানি তেল

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও সোনার দাম কমেছে

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও সোনার দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি অকার্যকর হয়ে যাওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়েছিল, সেটি এখন আর কার্যকর নেই।

ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় বুধবার সোনার দাম কমেছে।

আজ সকালে এ প্রতিবেদন লেখার সময় (নিউইয়র্কের সময় ৮ জুলাই রাত ১১টা ৫ মিনিট) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের লেনদেনে ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল সোনার দাম।

আগস্টে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের (সোনার আগাম দাম) দাম দিন শেষে ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮২ দশমিক ৪০ ডলারে স্থির হয়।

ফিউচার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হাই রিজ ফিউচারসের ধাতুবিষয়ক লেনদেন বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, ‘আজকের দরপতনের মূল কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যাওয়া। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসছেন। এর প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারেও।’

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণত মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ে। তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে। মূল্যস্ফীতির সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার কদর বাড়লেও সুদের হার বেশি থাকলে সুদহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।

এদিকে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণীতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, মূল্যবৃদ্ধির চাপ শুধু কয়েকটি খাতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রয়োজনে সুদের হার আবারও বাড়াতে হতে পারে।

১৬ ও ১৭ জুন অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী বুধবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, কয়েকজন নীতিনির্ধারক তখনই সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিএমই গ্রুপের ফেড ওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার মনে করছে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন ৬৯ শতাংশ। মঙ্গলবার এ সম্ভাবনা ছিল ৬২ শতাংশ।

এদিকে ব্যাংক অব আমেরিকার মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফেডের কঠোর মুদ্রানীতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় তারা ২০২৬ সালের গড় সোনার দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে। এই পূর্বাভাস ১৪ শতাংশ কমিয়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩৬০ ডলারের কথা বলেছে তারা। তবে সুদের হার বৃদ্ধির চক্র শেষ হলে সোনার দাম পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও ব্যাংকটি মনে করছে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ২৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৮০ দশমিক ৯২ ডলার ও প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২১৯ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমেছে।

আজও বেড়েছে তেলের দাম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই—ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবারও সেই ধারা অব্যাহত আছে।

লন্ডনের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের সেপ্টেম্বর মাসের জন্য যে ফিউচার বা আগাম দাম, তা প্রতি ব্যারেলে ৭৮ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) আগস্ট সরবরাহের দাম ৭৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ৭৪ দশমিক ২৬ ডলারে উঠেছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ হতো। ফলে এই নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।